শিরোনামহুমায়ূন আহমেদ স্মরণ
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার মাধ্যমে নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল সংসদ। ১৯ জুলাই জনপ্রিয় এই লেখকের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে হল মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার রাত ৯টায় মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচিত্র ‘শ্যামল ছায়া’ প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ‘‘স্মৃতি কথায় হুমায়ূন আহমেদ’’ শীর্ষক মুক্তবাক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন হল সংসদের ভিপি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম, হল ছাত্র সংসদের সদস্য সচিব ও এফ রহমান ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ইমদাদুল হক চঞ্চল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক প্রীতম চক্রবর্তী, স্যার এ এফ রহমান হল সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ এবং হল সাহিত্য সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খান।
হুমায়ূন আহমদ সম্পর্কে বলতে যেয়ে হল ছাত্র সংসদের সদস্য সচিব ও এফ রহমান ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ইমদাদুল হক চঞ্চল বলেন, ‘‘রবীন্দ্রনাথ বানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় আর হুমায়ুন আহমেদ নুহাশ পল্লী নামক পিকনিক স্পট বানিয়েছেন বলে একজন অধ্যাপক মন্তব্য করেছেন। নুহাশ পল্লীকে হুমায়ূন আহমেদ পিকনিক স্পট বানাননি। তার মৃত্যুর পর এটিকে পিকনিক স্পট হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে।’’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক প্রীতম চক্রবর্তী বলেন, ‘‘হুমায়ূন আহমেদ এমন একজন সহসী পরিচালক ছিলেন। যে সময়ে দেশে ‘রাজাকার’ শব্দটি উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ ছিল সে সময়ে তিনি তার নাটকে টিয়া পাখির মুখ দিয়ে ‘তুই রাজাকার’ শব্দটি শব্দটি বলান।’’
এফ রহমান হল সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘‘দেশের মাওলানা ও হুজুর শ্রেণিকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু অনেক মৌলভী ও হুজুরও কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেছিলেন। সে কথা কেউ তুলে ধরেণনি। হুমায়ূন আহমেদ তার শ্যামল ছায়া সিনেমার মাধ্যমে সেই বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন।’’
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মোনেম শাহরিয়ার মুন বলেন, ‘ডাকসুর হল সংসদ নির্বাচনে স্যার এ.এফ.রহমান হলের ‘সংস্কৃতি সম্পাদক’ হিসেবে আমি চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলে ‘স্যার এ.এফ.রহমান হল’ একটা অনুকরণীয় চারিত্রিক বৈশিষ্টের অধিকারী হয়ে উঠুক। সাহিত্য, সংস্কৃতি, আচার-ব্যবহার, চিন্তা-চেতনা, মননে-মগজে সৃষ্টিশীল এবং ‘পরিস্থিতির প্রোডাক্ট’ না হয়ে ‘সময়ের শেষ্ঠ উদাহরণ’ হোক।’
হল সাহিত্য সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘হুমায়ূন আহমেদ এমন একজন লেখক ছিলেন যিনি নিজেকেই নিজে বার বার ভেঙেছেন এবং গড়েছেন। আমরা তাকে দেখতে পাই লেখক হিসেবে, সেই লেখক সত্ত্বাকে ভেঙ্গে তিনি আশির দশকে হাজির হলেন নাট্য নির্মাতা হিসেবে, নব্বইয়ের দশকে তিনি আসলেন চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে। তিনি যেখানেই হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলিয়েছেন।’’
আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং হল ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মুন্না, হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দীন আহমেদ সাজু, হল সংসদের সদস্য আশিকুর রহমান লাভলুসহ হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে অনুষ্ঠান নিয়ে নিজের প্রতিক্রয়া জানান বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী নাসিম হাসান।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে বাবা ফয়েজুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজের কোল আলো করে জন্ম নেন হুমায়ূন আহমেদ। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং শেষ করে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে তিনি লেখালেখির শুরু করেন। ১৯৭২ সালে তার প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সেটি পাঠক প্রিয়তা পায়। ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগারে প্রকাশ হবার পর থেকে তিনি পাঠকমহলে শক্তিশালী লেখক হিসেবে সমাদৃত হন।
তার মোট প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দুই শতাধিক। জনপ্রিয়তার জগতে তিনি একক ও অনন্য। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্র ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোও আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, চন্দ্রকথা, দুই দুয়ারী, শ্রাবণ মেঘের দিন ও নয় নম্বর বিপদসংকেত, ঘেটুপুত্র কমলা প্রভৃতি।
সাহিত্যে অবদানের জন্য হুমায়ূন আহমেদ ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। এ ছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) এবং মাইকেল মধুসূদন পদকসহ বহু পুরস্কার ও পদক লাভ করেছেন।
হুমায়ূন আহমেদ কর্মজীবনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। পরে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে। লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে তিনি শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। একজন সফল মানুষ হিসেবে তিনি শুধু দেশে নয় দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন। জাপান টেলিভিশন ‘এনএইচকে’ তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছে ১৫ মিনিটের তথ্যচিত্র ‘হু ইজ হু ইন এশিয়া’।
খ্যাতিমান এই লেখকের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরণব্যাধি ক্যানসার ধরা পড়ে। রোগ মুক্তির জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। কিন্তু ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় তিনি পৃথিবীর সকল মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমান। তার মরদেহ গাজীপুরের নুহাশপল্লীর লিচুতলায় দাফন করা হয়।
আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন
??????? ?????? ??? ??? ???
???????????? ?????????????? ??????? ?? ???? ???? ???!
???? ????? ???? ???? ??????? ???? ??? ??????????
???? ??? ???? ?????? ????? ??? ??? ?????? ??????? ???????
??????? ?????????
?????????? ?? ?????
??????? ?????????????? ?????? ???????????? ?????????? ??????? ?????????????
?????? ???????? ???? ??????
???????? ??? ?????, ????????? ????????? ???? ??? ?????
?????? ????? ?????? ???? ???? ?????
??????? ?????? ??? ??? ???
???????????? ?????????????? ??????? ?? ???? ???? ???!
???? ????? ???? ???? ??????? ???? ??? ??????????
???? ??? ???? ?????? ????? ??? ??? ?????? ??????? ???????
??????? ?????????
?????????? ?? ?????
??????? ?????????????? ?????? ???????????? ?????????? ??????? ?????????????
?????? ???????? ???? ??????
???????? ??? ?????, ????????? ????????? ???? ??? ?????
?????? ????? ?????? ???? ???? ?????