দানবের মত ধেয়ে আসছে ঘুর্ণিঝড় ফণী। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক, চিন্তিত রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রনায়করা। যে যার মত সতর্ক করছে, হচ্ছে। খুঁজে নিচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়। সম্ভাব্য আক্রান্ত এলাকার মানুষকে আশ্রয় দেয়া হচ্ছে সাইক্লোন সেন্টারে। মানবপ্রেম আছে বলেই হয়তো এই প্রয়াস। আমি মহাভয়ে আছি এই ঢাকা শহরের কিছু মানুষকে নিয়ে!
আচ্ছা আমি তো তাদের মানুষ বলছি, তারা সত্যি সত্যি মানুষ তো? যদি তারা মানুষ বলেই বিবেচিত হতো তাহলে তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল কোথায়? তাদের জন্য সাইক্লোন সেন্টার কোথায়? এই শহরে বড় বড় অট্টালিকা আছে, মজবুত গাঁথুনির ইমারত আছে কিন্তু তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই কেনো? ও আচ্ছা, আপনারা বুঝতেছেন না কাদের কথা বলছি?
এই শহরের ফুটপাতে রাত কাটানো সেই শিশুগুলোর কথা, তাদের মায়েদের কথা। যারা পলিথিন দিয়ে খাঁ খাঁ রোদে ছায়াশ্রয় বানায়, ঝুম বৃষ্টিতে মাথা গুঁজে, প্রচণ্ড ঝড়ো ঝাপটায় দুইহাতে টেনে ধরে ছালার বস্তার দেয়াল; উড়িয়ে নিয়ে গেলে পিছু পিছু ছোটে, কাক ভেজা হয়ে গাছের নিচে বা অন্য কোথাও আশ্রয় নেয়- আমি তাদের কথা বলছি।
আমি ফুলার রোডের সেই পাগলিটির কথা বলছি, আমি যাত্রী ছাউনির সেই অর্ধনগ্ন পাগলটার কথা বলছি, শিশু পার্কের যেই টোকাই দম্পতি দু’টি বাচ্চা বুকে নিয়ে রাতে জড়াজড়ি করে ঘুমায় আমি তাদের কথা বলছি। আমি উদ্যানের ছিন্নমূল মানুষগুলোর কথা বলছি। আমি এই শহরের ভবঘুরে মানুষগুলোর কথা বলছি। রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডের ভাসমান মানুষগুলোর কথা বলছি।
বাংলাদেশের চাইতেও অনেক বড় আয়তনের ঘূর্ণিঝড় ফণীর হাত থেকে আজ রাতে কে তাদের আশ্রয় দিবে? আসন্ন বর্ষা কিংবা আজ মধ্যরাতের ঝড়-তুফানের কবল থেকে বাঁচতে আশ্রহীন এই মানুষগুলো কোথায় যেয়ে ঠাঁই নিবেন?
যে শহরের মসজিদ থেকে পিপাসিত মানুষ পানি খেতে পায় না, সেই শহরের মসজিদগুলোর পাষাণ দরজাকে খুলে দেবে? মাথায় ঘোমটা দিয়ে যেই দেবালয়ে ঢুকতে হয় সেই দেবালয়ে আজ কী করে ঢুকবেন অর্ধনগ্ন পাগল বা পাগলীটি? ধুলোবালি মাখা শরীরের শিশুগুলোর জন্য কোনো পুরোহিত কি খুলে দিবেন মন্দিরের দ্বার? কোনো পাদ্রি কি আজ রাতে পবিত্রতার কথা না ভেবে উদ্যানের পরিচয়হীন মানুষগুলোর জন্য গীর্জার কলাপসিবল গেট উন্মুক্ত করে দিবেন?
যদি এই শহরের বাউন্ডুলেরা মানুষ হয়ে থাকেন, তারা যদি এই দেশে জন্ম নিয়ে থাকেন, এই দেশের নাগরিক হয়ে থাকেন তবে তাদের জন্যও মাথা গুঁজার ঠাঁই করে দিতে হবে রাষ্ট্রকে। তাদের জন্যও দুর্যোগকালীন সুবিধার কথা ভাবতে হবে নগরপিতাকে।
লেখক: সহ-সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।