সাত কলেজ অধিভুক্তি: উন্নয়ন নাকি দুর্ভোগ?

এস এম তুষার হোসাইন
শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯


সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। অথচ এতোদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কলেজগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়নি। তা করা গেলে অন্তত কিছুদিন পরপরই শিক্ষার্থীদের মাঠে নামতে হতো না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার গত ৩ বছরের অভিজ্ঞতা হল, প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজের শিক্ষার্থীদের চাহিদাই পুরোপুরি পূরণে সক্ষম নয়। এমন অবস্থায় সাত কলেজের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেয়া কতটুকু যৌক্তিক? 

অনেকে বলে থাকেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই তাদেরকে অধিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্যে আমার একটি প্রশ্ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি তার নিজস্ব শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে পেরেছে? তা না পেরে থাকলে অধিভুক্তের নামে কেন লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলা হল?

সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেয়ার ফলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। যদিও বিষয়গুলো তুচ্ছ মনে হচ্ছে, কিন্তু এ বিষয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাকযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। 

উভয় পক্ষের মধ্যে স্নায়ু যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। যা নিয়ে যে কোন সময় সহিংস ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করে বিকল্প উপায়ে তাদের শিক্ষার মানোন্নয়নের চিন্তা করার দাবি জানাই। এতে করে বৃহৎ সংখ্যক শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগনেরও দূর্বিষহ জীবনের অবসান ঘটবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

[প্রিয় পাঠক, মুক্তমতে প্রকাশিত লেখার বিষয়বস্তু, রচনারীতি ও ভাবনার দায় একান্ত লেখকের। এ বিষয়ে বাংলা রানার কোনোভাবে দায়বদ্ধ নয়। মুক্তমত কিংবা বাংলা রানারে প্রকাশিত কোন মতামতের প্রতিক্রিয়া পাঠাতে পারেন brtube717@gmail.com এই ঠিকানায়]