সাভারে হানিফ পরিবহনের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী শ্রাবণ আহমেদ মিন্টু নিহতের ঘটনায় দ্রুত ঘাতক চালকের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানববন্ধন করেছে ক্ষুব্ধ সহপাঠীরা। ১৬ জুন, রোববার বেলা ১১টার দিকে সরকারি বাঙলা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে এই দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা ‘‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে; আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই” প্রভৃতি স্লোগান দেন। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তারা তিন দফা দাবি পেশ করেন। তাদের দাবিগুলো হল- ০১. অবিলম্বে জড়িত ড্রাইভার হেলপারকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ০২. নিহত শ্রাবন মিন্টুর পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ০৩. আহত সাজুর সকল চিকিচৎসা ব্যায়ভার বহন করতে হবে এবং যদি সাজু পা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সাজুর পরিবারকে অন্তত তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
দাবি মেনে নিতে শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে। দাবি মেনে নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। মানববন্ধন পরবর্তী সংবাদ ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবি মানা না হলে ঢাকা শহরে হানিফ পরিবহনের সকল কাউন্টার বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছে বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন পলাশ বলেন, ‘আগে আমি একজন শিক্ষার্থী তারপর আমার ছাত্ররাজনীতি। আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে আছি।’
সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ.এম. সাদ্দাম হোসেন কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, ‘মিন্টু আমার সাথে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে হাটছে, বহুদিন মিছিলে আমার সাথে জয় বাংলার স্লোগান দিয়েছে। ও এখন আমাদের মাঝে নেই এটা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’
উপযুক্ত বিচার ও শাস্তি প্রত্যাশা করে নিহতের ফুফাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যেই প্রশাসন ঘাতক বাস ড্রাইভার ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে মিন্টুর সঙ্গে থাকা সাজু গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। সেখানকার চিকিৎসক অধ্যপক ডক্টর রেজাউল করিম বাংলা রানারকে বলেন, ‘‘রোগীর অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। তবে গতকাল থেকে আজ কিছুটা ভাল। অন্তত ৪/৫ দিন যাওয়ার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।’’