বশেমুরকৃবি শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক: ভিপি নুর

রানার ডেস্ক
রবিবার, ২৩ জুন ২০১৯


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আন্দোলনকে যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর। ২৩ জুন, রোববার রাতে নিজের ফেসবুক ওয়ালে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। বশেমুরকৃবির শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত জরিমানা আদায়ের প্রতিবাদসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

তাদের দাবিগুলো হল- ০১. ক্লাসের ৮০ শতাংশ উপস্থিতি ধরে যে জরিমানা ধরা হয়েছে, সেটি বাতিল করতে হবে এবং পরীক্ষা দেয়ার সর্বনিম্ন উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশে কমিয়ে আনতে হবে। ০২. অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিল রেখে এনরোলমেন্ট ফি এক হাজার থেকে বারোশ টাকার মধ্যে রাখতে হবে। ০৩. দু’টি মিড পরীক্ষার একটি বাদ দিতে হবে এবং পরীক্ষার পর কোনো ক্লাস ল্যাব দেয়া যাবে না।

এসব দাবিতে চলমান আন্দোলন সম্পর্কে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক লিখেছেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাজীপুর) এর শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবি-দাওয়ার আন্দোলনকে আমলে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা খুব গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাঙ্গনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, গবেষণায় বরাদ্দ বৃ দ্ধি, অতিরিক্ত ফি নেওয়া বন্ধ, নানা অজুহাতে হয়রানিসহ শিক্ষার্থীদের মৌলিক দাবি-দাওয়ার মতো বিষয়গুলোর প্রতি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে শিক্ষার্থীরা আন্দেলনে নামতে বাধ্য হচ্ছে।”

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এই যুগ্ম আহ্বায়ক লিখেছেন, “সমস্যা চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা হলেও তা সমাধানে ঐভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কিংবা আন্তরিকতা চোখে পড়ে না। বরং নানা অপকৌশলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা অপতৎপরতা থাকে যা খুবই দুঃখজনক। ছাত্রবান্ধব দৃষ্টিকোণ থেকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়া পূরণে কর্তৃপক্ষ কাজ করলে শিক্ষাঙ্গণে কোন ধরণের সংকট কিংবা সমস্যা তৈরি হওয়ার কথা নয়। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অতিদ্রুত ‌বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবি-দাওয়াসমূহ মেনে নেওয়ার আহৃবান জানাচ্ছি।”

প্রসঙ্গত, ‘কোনো শিক্ষার্থী ৮০ শতাংশের নিচে ক্লাসে উপস্থিত থাকলে তাকে জরিমানা দিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে হবে’- বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ২০ মে এক ঘোষণায় এমন নিয়ম নির্ধারণ করে দেয়। ওই ঘোষণায় জানানো হয়- ‘ক্লাসে ৭০-৭৯ শতাংশ উপস্থিতি হলে দুই হাজার টাকা এবং ৬০-৬৯ শতাংশ উপস্থিতি হলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।’ এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই নিয়ম বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে।