বরগুনায় রিফাত হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধনে ভিপি নুর:
বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যার আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, দেশে আজ দুই ধরণের আইন চলছে। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য, অন্যটি সাধারণ মানুষের জন্য। এখন মামলা করতে গেলেও শুনতে হয়- কোন দল করেন? এভাবে দেশ চলতে পারে না।
২৮ জুন, শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত ওই মানববন্ধনে সংগঠনটির যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিশ্বজিৎকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। আদালতের রায়ও দেওয়া হলো। কিন্তু এরপরও রাজনৈতিক বিবেচনায় ৬ জনকে মুক্তি দেওয়া হলো। এ ধরণের বিচার হলে তো দেশে অন্যায় বাড়বেই।
সরকারের কাছে সাগর-রুনি, তনু, নুসরাত, রিফাতের হত্যাকরীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজ আজ কোথায় গেছে? প্রকাশ্যে একজনকে খুন করা হয়। শিক্ষক শিক্ষার্থীর প্রতি অবিচার করে। দেশে যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে সেখানে মানুষ কথা বলতে ভয় পাচ্ছে। ডাকসুর ভিপি বগুড়ায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলেও কোনো বিচার হয়নি। এ রাষ্ট্রই এখন অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে। এভাবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চলতে পারে না। কেউ এখানে নিরাপদ নয়।
সংগঠনটির অপর যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, বরগুনায় রিফাতকে দিনে দুপুরে হত্যা করেছে। সেখানে শুধু রিফাতকে হত্যা করেনি। তারা দিনে দুপুরে বাংলাদেশকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। বাংলাদেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে সেখানে রিফাতের হত্যার বিচার হবে কিনা সন্দেহ। বিচারবিভাগের প্রত্যেকটা কাজে কেন প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হবে? এ থেকে বুঝা যায়, দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে গেছে।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধ-অনিয়ম চলতেই থাকবে মন্তব্য করে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, সন্ত্রাসীরা দিনে দুপুরে মানুষ কুপিয়ে হত্যা করার সাহস কোথায় পায়? এ সাহসের মূল কারণ হচ্ছে দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি। অপরাধের যখন বিচার হয় না তখন সন্ত্রাসীরা সাহস পায়। রাষ্ট্র যতদিন আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করবে ততদিন আমরা এ আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
গত ২৬ জুন বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনায় রিফাত শরীফ তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন বন্ডসহ কয়েকজন যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। তাঁরা রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে সিনামা স্টাইলে কুপিয়ে জখম করে চলে যায়। পরে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে বিকাল ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।