৫ম আহম্মদ ফজলুর রহমান স্মারক বিতর্ক উসব ২০১৯

সংসদে তর্কের পরিবর্তে বিতর্ক হলে দেশের চেহারা অন্য রকম হত

এম.এস.আই খান
শুক্রবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯


সংসদে তর্কের পরিবর্তে বিতর্ক হলে দেশের চেহারা অন্য রকম হত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. আবু মো: দেলোয়ার হোসেন। ৫ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সকালে ৫ম আহম্মদ ফজলুর রহমান স্মারক সাক্ষরতা দিবস বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ''আমাদের দেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করেন যারা, সংসদ ভবন থেকে যারা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করেন তারা যদি তোমাদের মত যুক্তিবাদি হত, তর্ক না করে বিতর্ক করত তাহলে তাহলে দেশের চেহারা আজ অন্য রকম হত।''

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‌‌''তোমাদের সাথে ক্লাশে একশ-দেড়শ শিক্ষার্থী পড়ে। তাদের মধ্যে মাত্র চার-পাঁচজন বিতর্ক করে। বিতর্ক করার জন্য এক ধরণের সাহস লাগে, জড়তা কাটাতে হয়। অভিনয়ের চেয়ে বিতর্ক কম কষ্টের নয় কিন্তু। বিতর্ক যুক্তিবাদি হতে শেখায়। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন সফল ব্যর্থ যাই হোক না কেন তোমরা অন্তত এক সপ্তাহ ধরে যে শিক্ষা রাষ্ট্রকে, সরকারকে দিতে পেরেছ সেটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।  বিভন্ন সময় যখন নিরাপদ সড়ক বা সড়ক দুর্ঘটনার কথা বলা হয় তখন তোমাদের কথা বলা হয়, ওরা যদি পারে তাহলে আপনারা কেন নয়?

ইতিহাস বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ‌''তোমরা কিন্তু বিরাট শক্তি। সেই শক্তি আজকের নয় অনেক আগে থেকেই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করে দেশকে স্বাধীন করেছিল। তারা কিন্তু আমাদের মত বড় মানুষ ছিল না, তোমাদের মত তরুণ ছিল। তরুণ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ।''

এফ রহমান ডিবেটিং ক্লাবের বিতর্কে অংশ নিতে আসা তার্কিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ''তোমরা স্যার এ এফ রহমানের অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শে উজ্জিবিত হবে। জঙ্গিবাদ, মদক এ সমস্ত অপকর্মের সাথে একজন বিতার্কিক জড়ায় না বলে দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্বাস করি। তোমারা আগামীতে সুনাগরিক হবে। আমরা বোধহয় খুব খারাপ নাগরিকদের হাতে দেশ রেখে যাব না।''

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাযহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, ''সমাজে শুধু মাত্র তর্কে জেতার জন্য তর্ক করার নেতিবাচকতা রয়েছে। যেমন তর্ক না পারার কারণে সক্রেটিসকে মৃত্যু বরণ করতে হয়েছিল। সক্রেটিস বিচারকদের বলেছিল- আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছে তাদের সাথে আমার পার্থক্য হল তারা সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারে এবং মিথ্যাকে সত্যের মত করে উপস্থাপন করতে পারে। আমি সেটা পারি নাই। গুছিয়ে বলতে পারাটা আমার প্রতিপক্ষের সাফল্য এবং সেটা না পারাটা আমার ব্যর্থতা।''

এফ রহমান ডিবেটিং ক্লাবের এই মডারেটর বলেন, ''বিতর্ক একটা অধ্যবসায় বা চর্চার নাম। শেষ পর্যন্ত যদি সত্যের কোন অন্বেষণের সঙ্গে যুক্ত না হয়, শেষ পর্যন্ত এর সঙ্গে যদি পেশাদারিত্ব, সততা যুক্ত না হয় তাহলে এটি আমাদের খুব বেশি পরিমাণ উপকার করবে না।''

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর তাওহিদা জাহান বলেন,  ‌‌''স্যার এ এফ রহমানের উপমহাদেশের শিক্ষা বিস্তারে যে কৃতিত্ব রেখেছেন সেই কৃতিত্বকে স্মরণ করে সক্ষরতা দিবসকে উপজীব্য করা হয়েছে। এই সংযোজকটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্যার এ এফ রহমান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালি উপাচার্য। সুতরাং শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে তার যে অবদান, সেটির সাথে ‌'সবার জন্য শিক্ষা' সেই শিরোনামটিকে নিয়ে সাক্ষরতা দিবসকে উপজীব্য করার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।''

ক্লাবের সভাপতি ইমদাদু হক চঞ্চলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফ রহমান ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর তাওহিদা জাহান, এফ রহমান ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মুন্না, এবং শুভেচ্ছা বক্তা হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি এস.এম. রাকিব সিরাজী।

আইকন প্লাস ও এনআরবিসি ব্যাংকের সহযোগিতায় ৫ম বারের মত আহম্মদ ফজলুর রহমান স্মারক বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করেছে এফ রহমান ডিবেটিং ক্লাব। তিন দিন ব্যাপি এই বিতর্ক উৎসবের মিডিয়া সহযোগী হিসেবে রয়েছে জিটিভি ও বাংলা রানার।

উৎসবের প্রথম দিনে কলেজ পর্যায়ের বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফাইনালে উঠেছে রউফ কলেজ ডিবেটিং ক্লাব ও প্রত্যয় ডিবেটিং ক্লাব। আজ ৬ সেপ্টেম্বর ও আগামীকাল ৭ সেপ্টেম্বর সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩২টি দল বিতর্কে অংশ নিবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্বের ফাইনাল বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।