উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি:
ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস)'র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর, সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে এ অভিযোগ করেছেন অন্তত ২০ জন বিতার্কিক।
সংগঠনটির ২০১৮-১৯ কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি এস এম রাকিব সিরাজী এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মুতি আসাদের বিরুদ্ধে উপাচার্যের কাছে আর্থিক অনিয়ম ও গঠনতন্ত্র বিরোধী নানা অভিযোগ এনেছেন তারা। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মো: জাহিদ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে ০৯টি অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-
(১) একাধিকবার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও নিজেদের মেয়াদে কোনো আর্থিক বিবরণী প্রকাশ না করা এবং একাধিকবার চিঠি দেয়ার পরেও আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন না করা। (২) ডিইউডিএস-এর প্রতিষ্ঠাকালের পর থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচিত কোনো কমিটি অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখেনি। এই কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক গত ১৪ মাসের অধিক সময় অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে। তাদের এমনতর কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ডিইউডিএস-এর কার্যক্রমের পরিপন্থী।
(৩) বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখ উল্লেখ না করে এবং সংগঠনের বার্ষিক হিসাব বিবরণী পেশ না করেই পরবর্তী নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা । আরো উল্লেখ্য যে, নির্বাচনের একাধিক সম্ভাব্য তারিখ দেওয়া হয়েছে এবং সেটি শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। (৪) মডারেটর নিয়োগে গঠনতন্ত্রে উল্লিখিত ধারাটির সরাসরি ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে। উপরন্তু, ডিইউডিএস-এর মডারেটর হিসেবে নতুন করে চারজন মডারেটর নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়। নিয়মানুযায়ী মডারেটর থাকবেন ২-৩ জন ।
(৫) দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অধিকাংশ কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিংয়ে কোরাম পূরণ হয়নি। কোরাম পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত অন্য সদস্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। এছাড়াও তাদের মতামতের বিরোধিতা করায় বিভিন্ন সময়ে কার্যকরী কমিটির সভায় সদস্যদের সাথে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দূর্ব্যবহার ও অসদাচরণ করেছে।

(৬) কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং মডারেটর পর্ষদের গৃহীত সিদ্ধান্তের অমিল পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে কার্যকরী কমিটির বিভিন্ন এজেন্ডা মডারেটরদের নিকট ভুলভাবে উপস্থাপনের অবিতার্কিকসুলভ আচরণ করেছেন। (৭) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা সত্বেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দল প্রেরণে পক্ষপাতিত্ব এবং প্রেরিত দলগুলোর প্রয়োজনীয় রেজিষ্ট্রেশন ফি ও যাতায়াত ফি প্রদান না করা।
(৮) বিতর্ক আয়োজনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত বিষয়ের অবতারণা এবং ডিইউডিএস এর আয়োজনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের বিভিন্ন বিতর্ক সংগঠন কর্তৃক বয়কট ঘোষণা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা। (৯) বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রাপ্ত অর্থ সুস্পষ্ট খাতে ব্যবহার না করা এবং বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের বিবরণ প্রকাশ না করা।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং সুফিয়া কামাল কামাল ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান নূর ইভা বাংলা রানারকে বলেন, আমরা তাদের অনিয়মের ঘটনা জানিয়ে প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন), প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং সংগঠনের মডারেটর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা সাধারণ সভা আয়োজন করে সংগঠনের হিসাব বিবরণী পেশ করার জোর দাবি জানাই। পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ এই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন চাই।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করা ২০ বিতার্কিকদের মধ্যে আরো রয়েছেন- ডিইউডিএসের সাংগঠনিক সম্পাদক কান্ঞ্জিলাল রায় জীবন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক দীপাকর সমাদ্দার, বঙ্গবন্ধু হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ফিরোজ রানা অন্তর, বিতর্ক-একটি তার্কিক সংগঠন-এর সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় মজুমদার, মহসীন হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি মো: মাহবুবুর রহমান এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল ইসলাম পান্থ প্রমুখ।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মুতি আসাদ বলেন, তারা যে অভিযোগ করেছে তা অসত্য। ডিইউডিএসের বিগত কমিটিগুলো আর্থিক হিসাব দেয়নি। তবে আমরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছি যে, আমাদের শেষ মিটিংয়ে আমরা হিসেব দিয়ে যাব। আর বেশ কিছু ছুটি থাকায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কমিটি দিতে একটু বিলম্ব হয়েছে। কিন্তু আমরা এরই মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ২২ অক্টোবর ঘোষণা করেছি।