পরিশীলিত সাংস্কৃতিক চর্চায় গণমাধ্যম একটি বড় ভূমিকা পালন করে: সেলিনা হোসেন

আজিজুল হাকিম
বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯


পরিশীলিত সাংস্কৃতিক চর্চায় গণমাধ্যম একটি বড় ভূমিকা পালন করে বলে মন্তব্য করছেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক সেলিনা হোসেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের কাছে মানুষের প্রত্যাশার জায়গা ব্যাপক, যদি সেই অর্থে মাধ্যমটি প্রকৃত অর্থে সৎ, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে।'

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে ইতিহাস বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত ‘সংস্কৃতির অবিনাশী আয়োজন’ শীর্ষক মির্জা বানু স্মারক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, "গণমাধ্যম সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান। তাই একে সঠিকভাবে ব্যবহার করে মানুষের নানা পরিবর্তন সূচিত হতে পারে। বিশেষ করে যে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ নিরক্ষর সে দেশের ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের একটি বড় ভূমিকা জনগণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে"।

ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন এবং এন্ডাউমেন্ট ফান্ডের দাতা ও ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যেে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, "রাজনৈতিক আন্দোলন দানা বাঁধে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে"। এক্ষেত্রে তিনি  ভাষা আন্দোলনসহ এদেশের প্রধান আন্দোলন সংগ্রামের কথা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ৯ জন এমফিল শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ৯জন গবেষক হলেন- মুর্শিদা বিনতে রহমান, শহীদ কাদের চৌধুরী, আনন্দ বিকাশ চাকমা, সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মিলটন কুমার দেব, আশরাফুন্নাহার, মো. শহীদুজ্জামান, সানজিদা খানম এবং শুভাশীষ মজুমদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমাদের সমাজে দেয়ার চেয়ে নেয়ার প্রবণতাই বেশি। কিন্তু নেয়ার চেয়ে দেয়ার আনন্দ বেশি। তবে এখন মানুষের মানসিকতার আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন হচ্ছে। তিনি এই ধরনের বৃত্তি প্রদানের জন্য অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারকে ধন্যবাদ প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক শারমিন জাহান চৌধুরী সিরাজুল ইসলামের প্রয়াত স্ত্রী যার নামে উক্ত এন্ডাউমেন্ট ফান্ড প্রতিষ্টা করা হয়েছে অর্থাৎ মির্জা বানুর সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন। এরপর তার স্মরণে ১ মিনিট দাড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। প্রয়াত মির্জা বানু ও সিরাজুল ইসলামের মেয়ে অধ্যাপক ড. আশা ইসলাম নাঈমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও বিভাগীয় শিক্ষকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।