মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল ১১ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। গতকাল বিকাল ৩ টায় মুক্তিযোদ্ধা দিবসে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও সমাবেশ পালন করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
সমাবেশের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা তারামান বিবি বীর প্রতীক এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১মিনিট নীরবতা পালন করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবিগুলো হল-১. মুক্তিযুদ্ধ কোটা বহাল করতে হবে এবং কমিশন গঠন করে কোটার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা , ২. বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা, ৩. ১লা ডিসেম্বরকে জাতীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি ও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা, ৪. দুর্নীতিবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, শেয়ারবাজার লুটকারী ও ঋণ খেলাপীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা, ৫. যুদ্ধাপরাধী ও তাদের বংশধরদের উপজেলা ভিত্তিক তালিকা দ্রুত প্রণয়ন করা, ৬. যুদ্ধাপরাধী ও তাদের বংশধরদের যারা সরকারি চাকরিতে বহাল আছে তাদের বরখাস্ত করা, ৭. যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের বংশধরদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা, ৮. বিভিন্ন সময়ে গণযোগাযোগ মাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি এবং বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ কারীদের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের হলোকাস্ট এক্ট বা জেনোসাইড ডিনাইয়াল ল এর আদলে আইন করে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে বিচার করা,
৯. কোটা সংস্কার আন্দোলনে উস্কানিদাতা ও গুজব সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে বিদেশে অনুদানে রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ১০. তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা এবং
১১. বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেইজ যেমন কোটা সংস্কার চাই, বাঁশেরকেল্লা, বিসিএস আওয়ার গোলস, অপরাজেয় বাংলা, স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন গ্রুপে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তিকারীদের এবং এসব পেইজের এডমিন মডারেটরদের চিহ্নিত করে বিচার করা।
মানববন্ধনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন বলেন, টাঙ্গাইলের বীর মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র ছিঁড়ে ফেলেছে কুলাঙ্গার চিকিৎসক শহীদুল্লাহ্। এরকম ঘৃণ্য কাজের মাধ্যমে সে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা হয়েছে। আজও পর্যন্ত তার বিচার হয়নি। সারা বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারদের উপর হামলা, নির্যাতন হচ্ছে। যদি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হতো তাহলে এরকম ঘটনা ঘটতো না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের প্রজন্মের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন করুন। অনেক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বেকার অবস্থায় আছে। বঙ্গবন্ধুর দেয়া ১ম ও ২য় শ্রেণীর চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। শুধুমাত্র ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর চাকুরিতে কোটা রেখে আমাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের ১১ দফা দাবি পূরণ হলে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় পরিপূর্ণতা লাভ করবে। দাবি না মানলে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে শাহবাগসহ সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচী পালন করবে।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুনের সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। মানববন্ধন ও সমাবেশে আরোও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি সোহেল রানা, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন, উত্তর শাখার সভাপতি আহমেদ হাসনাইনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে টিএসসি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনটি।