মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্র পরিষদের মুখোমুখি অবস্থান:
ফাইল ছবি
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম করে যারা ভণ্ডামী করছে তাদের ব্যাপারে সচেতন হবার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)'র সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। ১৮ ডিসেম্বর, বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের মুখোমুখি অবস্থানের সময় তিনি এ কথা বলেন।
ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএবি) বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে মঙ্গলবার ডাকসুর ভিপি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জড়ো হন। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ দুই দফায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৯ জনকে আহত করে। হামলার ভিডিওতে দেখা গেছে, আক্রমণকারীদের ভিপি নুরও পাল্টা মার দিয়েছেন। গতকালের ওই হামলার প্রতিবাদে আজ দুপুরে ছাত্র বিক্ষোভের ডাক দেন নুরু। একই সময় পাল্টা কর্মসূচি দেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
পূর্বঘোষিত ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ উভয় পক্ষ রাজু ভাস্কর্যে মুখোমুখি অবস্থান নিলে ফের তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন সহকারী প্রক্টর বদিরুজ্জামান। তিনি উভয় পক্ষকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে নেমে যাওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় উভয় পক্ষই উত্তেজিতভাবে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চে ভাস্কর্যের সামনের সড়কে এবং সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেন।
উত্তপ্ত পরিস্থির মধ্যেই সন্ত্রাস বিরোধী বাজু ভাস্কর্যের পদেদেশে দাঁড়িয়ে মাইকে কথা বলতে শুরু করেন ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘‘এনআরসি’র মাধ্যমে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা চলছে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লাঠি-হক স্টিক নিয়ে এসেছে। আপনাদের গায়ে আঘাত না লাগা পর্যন্ত আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবেন। আঘাত আসলে সেটাকে প্রতিহত করার জন্য যা করার লাগে করবেন। আজকে এই দেশে গণতন্ত্র কিংবা আইনের শাসন নেই যে আমরা বিচার পাব। সুতরাং আপনাদেরকে আত্মরক্ষা নিজেদেরকে করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে লড়াই করতে হবে।”
“ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে আর কোন আবরারকে যেন মৃত্যু বরণ করতে না হয়। সে জন্য বাংলার ছাত্র সমাজকে সোচ্চার হতে হবে। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম করে যারা ভন্ডামী করে বেড়াচ্ছে, দেশের মুক্তিযুদ্ধকে যারা বিকৃত করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যবহার করতেছে, গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করে স্বৈরতন্ত্র কায়েমের পায়তারা করতেছে তাদের বিরুদ্ধে আপনাদের সচেতন থাকতে হবে।”
আক্ষেপ করে ভিপি নুরুল হক আরো বলেন, ‘‘এই গণতন্ত্র, বিচারহীনতা দেখার জন্য ৩০ লাখ শহীদ জীবন দেয়নি, দুই লক্ষ মা-বোন তাদের ইজ্জত দেয়নি। প্রয়োজনে স্বাধীনতা-সর্বভৌমত্বের জন্য যদি জীবন দিতে হয়, রাজপথে জীবন দেব। আপনাদের প্রতি আহবান, ডাকসুর ভিপি হিসেবে বলছি, জীবনের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবে।’’
বক্তব্য শেষে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারের দিকে চলে যান। পরে মিছিলটি শহীদ মিনার হয়ে দোয়েল চত্বর, রাজু ভাস্কর্যে ঘুরে শাহবাগ থানার সামনে এসে অবস্থান নেয়। বিক্ষোভ মিছিলে তারা ‘‘সন্ত্রাস যেখানে, লাড়াই হবে সেখানে; ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা; আপোষ না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ প্রভৃতি শ্লোগান দিতে থাকেন। শেষ খবর পাওয়াস পর্যন্ত শাহবাগ থানার সামনেও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি অবস্থান করেছেন।
এ দিকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল শাহবাগে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের ব্যানারে ও নুরুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, জামায়াত-শিবির আশ্রয় নিয়েছে।