সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা:
রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানিয়েছে গত ২৬ মে থেকে টানা রাজু ভাস্কর্যে অবস্থানকারী পদবঞ্চিতরা।
প্রধানমন্ত্রী ও ছাত্রলীগের আদর্শিক নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চান আন্দোলনে থাকা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির পদবঞ্চিত নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে সমস্যার সমাধান টানার ইঙ্গিত দিয়ে ১৮ জুন, মঙ্গলবার দুপুরে তারা বলেছেন, “আমাদের দাবির বিষয়ে নেত্রীর সাথে একবার দেখা করতে চাই। তিনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা আমরা মেনে নিব।”
রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানিয়েছে গত ২৬ মে থেকে টানা রাজু ভাস্কর্যে অবস্থানকারী পদবঞ্চিতরা। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে বিতর্কিত প্রমাণিত হওয়ায় বহিষ্কৃত ১৯ জন কারা, তাদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি বহিষ্কৃতদের শূন্য পদে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে ত্যাগীদের দিয়ে পূরণ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন ছাত্রলীগের গত কমিটির সাবেক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সম্পাদক রাকিব হোসেন। মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, “অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে , ঐতিহ্যবাহী একটি ছাত্রসংগঠনে বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেখে ছাত্রলীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে আমরা ব্যাথিত, হৃদয় ভারাক্রান্ত। সংগঠন গড়ার ক্ষেত্রে শতভাগ সুষ্ঠুতার নজির পৃথিবীতে আছে কিনা আমাদের জানা নেই। কিন্তু প্রকাশ্য দিবালোকে, অনিয়ম, গঠনতন্ত্রের চরম লংঘনের নজিরও ছাত্রলীগের ইতিহাসে তো নয়ই পৃথিবার কোথাও আছে কি - না তাও আমাদের জানা নেই।”
“কোনো ধরনের বাছ-বিচার করা ছাড়াই এতো বড় গণতান্ত্রিক একটি ছাত্র সংগঠনের পদ দেয়া হয়েছে দাবি করে ছাত্রলীগের সাবেক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, “আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ করেছি বিগত সময়গুলোতে যারা সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে প্রবলভাবে জড়িত ছিল, তাদের একটি বৃহৎ অংশকে বাদ কিংবা সঠিক পদে মূল্যায়ন না করে নিষ্ক্রীয়, চাকরিজীবী, বিবাহিত, অছাত্র, গঠনতন্ত্রের উল্লেখিত অধিক বয়স্ক, বিভিন্ন মামলার আসামি, মাদকসেবী, মাদক কারবারি, অপকর্মের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কৃত বা বিতাড়িতসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পদ দেয়া হয়েছে।”
বিতর্কিত কমিটি গঠিত হওয়ার পর মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সেখানে তাদের জখম করা হয়েছে জানিয়ে এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, “রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আমাদের আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতবৃন্দের সাথে দেখা করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ কামনাসহ এসব ঘটনার জড়িতদের বিচার ও কমিটি থেকে বিতর্কিতদের অপসারণ করে তদন্তের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানাই। তারা আমাদের দাবি মেনে নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করতে বললে আমরা সেখান থেকে তৎক্ষণাৎ চলে যাই। পরে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। আমরা অবাক হলাম, যখন দেখলাম তাতে একজন ভিকটিমকেই সাময়িক বহিষ্কারের পাশাপাশি আরো দুজন ভিকটিমকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে।”
“শুধু কয়েকজনকে নামেমাত্র সাজা দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালে নেয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এসব অনিয়ম অবিচার চলতে থাকলে ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। আর নারীনেত্রীদের সাথে একের পর এক যে ধরণের ঘটনা ঘটেছে সেসব ঘটনা বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিকূল ভূমিকা পালন করবে। নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হ্রাস পাবে । উল্লেখযোগ্য কোনো নারী নেতৃত্ব তৈরি হবে না। শুধুমাত্র ব্যক্তি বিবেচনায় কমিটিতে জায়গা দেয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক” বলেন রাকিব।
তিনি আরো বলেন, অনিয়মের কমিটি নিয়ে আমরা বারংবার প্রতিবাদ জানিয়েছি। কমিটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই পদবঞ্চিতরা বিতর্কিত কমিটির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছিল। কিন্তু আবেগের সেই মিছিলে হামলা চালিয়ে নারীনেতৃবৃন্দসহ বেশ কয়েকজনকে আহত করা হয়।
গত ১৩ মে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। একই দিন তার প্রতিক্রিয়ায় মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিতরা সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কর্মীদের মারধরের শিকার হন ১২ জনের মতো নারী নেত্রীসহ পদবঞ্চিত নেতাকর্মী। পরে ১৮ মে রাতে টিএসসিতে আবার হামলার শিকার হন তারা। ওই ঘটনার পর তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে হামলার বিচারসহ কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে অনশন শুরু করেন। পরদিন ১৯ মে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের আশ্বাসে অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেন পদবঞ্চিতরা।
এরপর ২০ মে মধুর ক্যান্টিনের ঘটনায় পাঁচজনকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। আর বিতর্কিত হওয়ায় আরো ১৯ জনকে সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিষ্কার করার কথা জানায় শোভন-রাব্বানী। তবে বহিষ্কৃতদের নাম ও পরিচয় গোপন রেখে সবাইকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে গত ২৬ মে দ্বিতীয় দফায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে পদবঞ্চিতরা।