ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান ১২ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২২ জুন, শনিবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে তাদেরকে দলের সব সব ধরণের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, “দলীয় শৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নিন্মবর্ণিত নেতৃবৃন্দকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
বহিষ্কৃতরা হলেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইকতিয়ার কবির, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি জয়দেব দয় ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি মামুন বিল্লাহ।
এছাড়াও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বায়েজিদ আরেফিন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আযম সৈকত, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সদস্য আজীম পাটোয়ারীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিস্কারকৃতরা গত ১১ জুন থেকে বয়সসীমা বাতিল করে ছাত্রদলের ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে আন্দোলনে ছিলেন। ২২ জুন দুপুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচের তলায় সংবাদ সম্মেলন করে এবং তারও ঘন্টা খানেক আগে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে তারা।
বহিষ্কারের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকি বাংলা রানারকে বলেন, “আমরা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছি। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছি। যারা খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনসহ বিগত আন্দোলনে সামনে থেকে ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছে তাদেরকে এমন প্রতিদান দেয়া হবে কখনও ভাবিনি।”
“এর ফলে তৃণমূলে ভুল বার্তা যাবে। আগামিতে আন্দোলনে কাউকে খুজে পাবে না। ছাত্রদলকে দুর্বল করতে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। যড়যন্ত্রকারীরা আমাদের প্রিয় নেতা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভুল বার্তা দিচ্ছেন। আমাদের বিশ্বাস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ভবিষ্যতে বুঝবেন ছাত্রদল ধ্বংসের যন্ত্রযন্ত্রকারী কারা।” বলেন তিনি।