মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির একটি কক্ষ থেকে দুই ছাত্র-ছাত্রীকে আটক করেছে প্রক্টরিয়াল বডি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ট্যুরিস্ট সোসাইটির কক্ষ থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, আটককৃতরা প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে প্রথমে নিজেদের ভুল পরিচয় দেন। পরে তাদের প্রকৃত পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী সাফায়াতে নূর সায়ারা নওশীন ও স্যার এ এফ রহমানের হলের আবাসিক ছাত্রী ইমরান হোসেন শাহরিয়ার। তারা দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সাফায়াতে নূর সায়ারা নওশীন আইএমএলে এবং ইমরান হোসেন শাহরিয়ার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়েন।
এর মধ্যে সাফায়াতে নূর সায়ারা নওশীন ভর্তি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে ভর্তি হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সিআইডি দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে যে ৮৭ শিক্ষার্থীর নামে চার্জশীট দিয়েছে সেখানে তার নাম রয়েছে। এদিকে টিএসসসির দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদে নওশীন সায়েরা নিজের নাম আতিকা বিনতে হোসেন এবং ইমরান শাহরিয়ার নিজের নাম শাহরিয়ার কবির বলে জানান। পরবর্তীতে তাদের আইডি কার্ড দেখে তাদের আসল পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে প্রক্টরিয়াল টিম।
প্রক্টরিয়াল বডি সূত্রে জানা যায়, ট্যুরিস্ট সোসাইটির কক্ষে দুজন ছাত্র-ছাত্রী দীর্ঘ রাত পর্যন্ত অবস্থান করছে- গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে সেখানে হাজির হয় প্রক্টরিয়াল টিম। রাত ১টার দিকে কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা ও লাইট বন্ধ দেখতে পান। বেশ কিছু সময় ডাকাডাকির পরও ভিতর থেকে তারা কোন সাড়া দেননি। পরে দরজা ধাক্কানো পর ভিতর থেকে দরজা খুলে দেন। এ সময় ইমরান হোসেন শাহরিয়ার ও সাফায়াতে নূর সায়ারা বের হয়ে আসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের কক্ষ ব্যবহার করতে পারবে। তবে কোনো বিশেষ কর্মসূচি থাকলে অনুমতি সাপেক্ষে রাত ১১টা পর্যন্ত কক্ষ ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে।
‘দীর্ঘ রাতপর্যন্ত কক্ষের ভেতর কি করছিলেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরান হোসেন শাহরিয়ার বলেন, তারা কক্ষের ভেতরে ঘুমাচ্ছিলেন। ‘হল থাকতে কেন কক্ষের ভেতর ঘুমাচ্ছিলেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গতকাল নওশীন সায়েরা তার বাড়ি গাজিপুর থেকে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। ১০টার পরে আর হলে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় সেখানে ছিলেন।
তবে নওশীন সায়ারা আসলেই তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুর থেকে এসেছে কি না তাৎক্ষনিকভাবে সেটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে রাত ১০টায় ছাত্রী হলের গেট বন্ধ হয়ে গেলেও কোনো ছাত্রী’র হলে ফিরতে বেশি রাত হয়ে গেলে হল প্রভোস্ট বা সংশ্লিষ্ট ব্লকের শিক্ষক অথবা প্রক্টরিয়াল বডির সাহায্যে হলে প্রবেশ করতে পারে।
এদিকে ঘটনার পরপরই এফ রহমান হলের ৩০৮ নং কক্ষের ছাত্র ইমরান হোসেন শাহরিয়ারকে নিতে টিএসসিতে আসেন ওই হলের জিএস আব্দুর রহিম সরকার। “এ ছেলের জিম্মাদার আমি, তাকে আমি দেখব।’’ বলে ওই ছাত্রকে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছ থেকে নিয়ে যান রহিম।
ঘটনার বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি আসিফ উল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘ঘটনাটি অল্প শুনেছি। ঘটনা বিস্তারিত জেনে এবং ঘটনার সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ট্যুরিস্ট সোসাইটির কক্ষের চাবি এক্সিকিউটিভ বডির কাছে থাকে। এবং মোট ২০-২৫ জনের কাছে চাবি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বাংলা রানারকে বলেন, “উদ্ধার করার পর তাদের নিজ নিজ হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে হলে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা ঘটনার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।”