ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলে নানা রকম অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। তবে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক বলেছে অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং প্রমাণ পেলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
ভর্তিচ্ছুদের অভিযোগ, ভর্তি পরীক্ষার চারটি অংশের মধ্যে গণিত অংশে সঠিক উত্তরের সংখ্যাকে ভুল হিসেবে গণনা করা হয়েছে। এতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় পিছিয়ে পড়েছেন। অনেকে আবার উত্তীর্ণই হতে পারেননি। অভিযোগকারী এক শিক্ষার্থীর ফল ঘেটে দেখা যায়, পদার্থ অংশে ১৪টি প্রশ্নের মধ্যে ১৩টি, রসায়ন অংশে ১৩টির মধ্যে ১১টি, জীববিজ্ঞান অংশে ৪টির মধ্যে ৪টিরই সঠিক উত্তর দিয়েছেন। অথচ গণিত অংশে ১২টির মধ্যে ১১টিই ভুল উত্তর দিয়েছে সে। তবে শিক্ষার্থীর দাবি সে গনিতে ১টি মাত্র ভুল উত্তর দিয়েছে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর তা উল্টোভাবে দেখাচ্ছে।
অনিন্দ্য নামে ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থী জানান, ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ৮১৭ মেধাস্থান অধিকার করেছে। পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞানের এমসিকিউয়ের অংশে ১৪টি প্রশ্নের মধ্যে সঠিক উত্তর দিয়েছে ১৩টির। রসায়ন অংশে ১৫টির মধ্যে ১৩টির সঠিক উত্তর দিয়েছে। গণিতে ১৫টির মধ্যে সঠিক উত্তর দিয়েছে ৪টির। তবে তার অভিযোগ তিনি গণিত অংশে ১৩টি সঠিক উত্তর দিয়েছেন। শুধু অনিন্দ্য নয় ফল প্রকাশের পর থেকে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এমন অভিযোগ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের এইসব অভিযোগের বিষয়ে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের এধরণের অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। আমরা একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশ করে থাকি। অভিযোগটি আমরা খতিয়ে দেখবো। প্রমাণ পেলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।’
এদিকে, ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৩.০৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তিযোগ্য বিবেচিত হয়েছে। অন্যদিকে, চারুকলা অনুষভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ২.৫০ শতাংশ ভর্তির জন্য বিবেচিত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান এই ফল প্রকাশ করেন। এসময় বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ‘ক’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, চারুকলা অনুষদের ডিন ও ‘চ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী অধ্যাপক নিসার হোসেন, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সুব্রত কুমার আদিত্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবছর ‘ক’ ইউনিটে ১হাজার ৭শ’ ৯৫টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮৫হাজার ৮শ’ ৭৯ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১হাজার ২শ’ ০৭জন শিক্ষার্থী। এমসিকিউ ও লিখিত অংশসহ সমন্বিতভাবে পাশ করেছেন ১৩ দশমিক ০৫ ভাগ শিক্ষার্থী। আরও জানোনো হয়, ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ০৭ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত ফরম ও বিষয়ের পছন্দক্রম ফরম পূরণ করতে হবে। বিভিন্ন কোটায় আবেদনকারী উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের কোটার ফরম ২২ থেকে ২৯ অক্টোবরের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিস থেকে সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করে একই অফিসে জমা দিতে হবে। ফলাফল নিরীক্ষণের জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে আগামী ২২ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে আবেদন করা যাবে।
আরও জানানো হয়, এছাড়াও এবছর ‘চ’ ইউনিটে ১শ’ ৩৫টি আসনের বিপরীতে ১৬ হাজার ২জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে অঙ্কন পরীক্ষায় ১২শ’ ০২জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ভর্তিযোগ্য বিবেচিত হয়েছে ৩শ’ ৪৩জন শিক্ষার্থী। পাশের হার ২.৫০ শতাংশ। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আগামী ২১ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত ফরম ও বিষয়ের পছন্দক্রম ফরম পূরণ করতে হবে। বিভিন্ন কোটায় আবেদনকারী উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের কোটার ফরম ২১ থেকে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে চারুকলা অনুষদের ডিন অফিস থেকে সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করে একই অফিসে জমা দিতে হবে। ফলাফল নিরীক্ষণের জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে আগামী ২১ থেকে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে চারুকলা অনুষদের ডিন অফিসে আবেদন করা যাবে।