Bangla Runner

ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১ | বাংলা

শিরোনাম

মানুষের হাড়, খুলি, কঙ্কালে তৈরি হয়েছে যে গীর্জা কান্নার গল্প রেখে গেলেন হাসির বিজ্ঞাপনের মাসুদ আল মাহদী অপু মানুষ থেকে পাথর হয়ে যাচ্ছে এক শিশু নিয়মিত সাহিত্যবিষয়ক লেখা প্রকাশ করছে দূর্বাঘাস ত্বকী: একটি বিচারহীনতার প্রতীক পার্কের দাম একটি আস্ত শহরের চেয়েও বেশি! বঙ্গবন্ধুর মননে পিছিয়ে পড়া মানুষ নীতিতে আপোষহীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শতবর্ষে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ঢাবি আলাদিনের প্রদীপে ভয়ঙ্কর ফাঁদ
Home / স্মরণীয় বরণীয়

 ইয়ূথ পলেসি ফোরামের সেমিনারে প্রশ্ন:

তাজউদ্দীন তো রাজনীতি করতেন, পরিবার চালানোর খরচ পেতেন কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১ Print


বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ রাজনীতি করতেন। নানা সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করে জেলে কাটিয়েছেন। এই সময়ে তার স্ত্রী-সন্তানদের সময় কিভাবে যেত? পারিবারিক খরচের টাকা কোথা থেকে আসত? এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তাজউদ্দীন আহমদের বড় মেয়ে এবং ‌‌‘নেতা ও পিতা’ বইয়ের লেখক শারমিন আহমদ।

গত ১৯ জুলাই, বনানী’র প্রাসাদ ট্রেড সেন্টারে ইয়ূথ পলেসি ফোরাম আয়োজিত ‘আমাদের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও যুদ্ধকালীন’ সরকার শীর্ষক সেমিনারে রাজনীতিবিদ তাজউদ্দীনের আয়ের উৎস জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম খান। তার প্রশ্নের জবাবে শারমিন আহমদ বলেন, “১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিপুল ব্যাবধান ভোটে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে এমএলএ নির্বাচিত হন তাজউদ্দীন আহমদ। তার বয়স তখন ২৭-২৮ বছর। তিনি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকির আবদুল মান্নানকে বিশাল ভোটের ব্যাবধানে হারান।”

“তিনি এমএলএ হিসেবে ২০০ টাকার মত সরকারি ভাতা পেতেন। তখনকার সময়ের ২০০ টাকা। তা দিয়ে চলতেন এবং উদ্বৃত্ত বাড়িতে পাঠাতেন। তারপর যখন আইয়ূবখান আসলো (১৯৫৮), মার্শাল ল জারি করলো। তখন তো পার্লামেন্ট ভেঙে গেল। তখন কিভাবে চলত? আমার বাবা ও মায়ের বিয়ে হয় ১৯৫৯ সালে। আমার মা বিয়েতে সোনার গয়নার পরিবর্তে বেলি ফুলের গয়না নিয়েছিলেন।” বলেন শারমিন আহমদ।

তাজউদ্দীন আহমদের বড় সন্তান বলেন, “(১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারি হওয়ার পর) বাবা একজন কাঠের ব্যবসায়ীর সাথে কাজ করতেন, সেখান থেকে ওনার কিছু আয় হত। তাছাড়া তিনি ছিলেন মধ্যবিত্ত ভূস্বামী পরিবারের সন্তান। দরদরিয়াতে আমাদের এখনো প্রায় ২০০ বিঘার মত জমি আছে। এমন নয় যে তিনি একেবারে নিঃস্ব ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছেন। দেশের বাড়ি থেকে চাল-ডালটা আসত।”

শারমিন আহমদ বলেন, “এমএলএ থাকার কারণে তিনি ধানমণ্ডিতে একটা প্লট পেয়েছিলেন। হাউজ বিল্ডিং থেকে ৪০ হাজার টাকা লোন করে সেই জমির ওপর দোতলা বাড়ি করেন। আম্মা বলেছিলেন, ‘দোতালা বাড়ি কেন করছ? লোন বেশি নিতে হল। আমাদের তো একতালা হলেই হয়।’ তখন আব্বু বলল, ‘কেন করছি এটার কারণ পরে বুঝবে।’ আপনি প্রশ্ন করলেন কিভাবে চলত? যখন আব্বু জেলে গেল (১৯৬৬) তখন ওই বাসাটার দোতালা ভাড়া দিয়ে আমরা চলতাম। অনেক সময় এমনো যেত জাস্ট ডাল-ভাত খেয়ে আমাদের থাকতে হত।”

ঝিলিক খেলে যাওয়া চোখে তিনি বলেন, ‘‘আব্বু জেলে গেলন তখন, ওই ভাড়া আসত আর দেশের বাড়ি থেকে চাল-ডাল আসত। আমরা বড় হয়েছি খুব সিম্পলভাবে। আমার মনে আছে. আমার দু’টা কাপড় ছিল। একটা কাপড় ধুয়ে আবার আরেকটা কাপড় এভাবে আমরা বড় হয়েছি। আর আমাদের সব জামা কাপড় আমার মা বানিয়ে দিতেন। ঈদের সময় আমরা মা’র বানানো কাপড় পরেই কাটিয়ে দিতাম। অল্পের মধ্যে খুব সৌন্দের্যের সাথে বাস করার শিক্ষাটা আমরা বাবা-মায়ের কাছ থেকে শিখেছি।”

শারমিন আহমদের উত্তরের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রচয়িতা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম সংবিধান প্রণেতা ও তাজউদ্দীন আহমদের ঘনিষ্ঠ সহচর ব্যরিস্টার আমিরুল ইসলাম যোগ করেন, ‘তাদের শাল বন ছিল। এখন আছে কি না জানা নেই। শাল কাঠ এখনো মূল্যবান।’ এ সময় শারমিন আহমদ জানান, ‘এখনো সেই বন আছে।’

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2021 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon