Bangla Runner

ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১ | বাংলা

শিরোনাম

মানুষের হাড়, খুলি, কঙ্কালে তৈরি হয়েছে যে গীর্জা কান্নার গল্প রেখে গেলেন হাসির বিজ্ঞাপনের মাসুদ আল মাহদী অপু মানুষ থেকে পাথর হয়ে যাচ্ছে এক শিশু নিয়মিত সাহিত্যবিষয়ক লেখা প্রকাশ করছে দূর্বাঘাস ত্বকী: একটি বিচারহীনতার প্রতীক পার্কের দাম একটি আস্ত শহরের চেয়েও বেশি! বঙ্গবন্ধুর মননে পিছিয়ে পড়া মানুষ নীতিতে আপোষহীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শতবর্ষে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ঢাবি আলাদিনের প্রদীপে ভয়ঙ্কর ফাঁদ
Home / বই আলোচনা

দিবানিশি: গ্রামীণ জনপদের দিন রাতের গল্প

এম.এস.আই খান
শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১ Print


ইয়া মাবুদ বলে বিকট এক চিৎকারে মধ্যরাতের সকল নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিল নিজাম। দুই ছেলেকে সরিয়ে দৃশ্যটা দেখলো আশ্বাব তালুকদার। তালুকদারের তিন ছেলের মধ্যে ছোট নিজাম, মেজ আজম এবং সবার বড় আখতার। দেশ ছেড়ে যাওয়া এক হিন্দু পরিবারের 'ঘোষ ভিটা' কে কেন্দ্র করে উপন্যাসের যাত্রা শুরু। বলছিলাম লেখক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের তরুণদের মধ্যে সাড়াজাগানো সমকালীন উপন্যাস 'দিবানিশি'র কথা। ২০১৭ সালে অমর একুশে বই মেলায় ২০৬ পৃষ্ঠার এই বইটি প্রকাশ করে অন্বেষা প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন লেখকের স্ত্রী সানজিদা পারভীন তিন্নি। গায়ের মূল্য ৩০০ টাকা হলেও পাঠকরা ২০-২৫% ছাড়ে সংগ্রহ করতে পারবেন দীপনপুরসহ অভিজাত লাইব্রেরি সমূহ থেকে।

অনুসন্ধানী একজন সাংবাদিক হিসেবে ইতিমধ্যেই খ্যাতি কুঁড়ানো লেখক আব্দুল্লাহ আল ইমরান তার এই উপন্যাসের শুরুটা করেছেন অমাবস্যার নিশুতি রাতের বর্ণনা দিয়ে। উপন্যাসের পরতে পরতে রেখেছেন রহস্যের বাঁক। কৃষ্ণদের বসতভিটায় একটি মন্দির ছিল। জনশ্রুতি আছে, মন্দিরের নিচে কিংবা পার্শ্ববর্তী জমিতে খুড়লে রত্নভরা কলস মিলবে। এরূপ সম্ভাবনার বার্তা দীর্ঘদিন ধরে কানকথা হয়ে ছড়িয়ে আসছে চানপুরার হাটে-ঘাটে, ক্ষেত খামারে। দেশ ত্যাগী হিন্দু পরিবারের কাছ থেকে ‘মন্দিরের সম্মান রক্ষার’ শর্তে ভিটেমাটি কিনে নেয় আশ্বাব তালুকদার।

ঘোষভিটার মালিকানা হাতে পেয়ে তালুকদার প্রথমেই মন্দিরের যাত্রাপথে বেড়া দিতে শুরু করেন। কিন্তু কেন? এদিকে বেড়ার জন্য খুটি পুততে যেয়ে সৃষ্টি হয় আরেক রহস্যজনক অধ্যয়ের। লোকমুখের শোনা গুপ্তধনের লোভে তালুকদার পরিবার বিভোর হয়ে পড়ে। ঘটনাক্রমে দুটি মাঝারি ধরণের কলসের সন্ধান পায় তালুকদারের ছেলেরা! লোক চক্ষুর আড়াল করতে রাতের আধারে সে কলস আনতে যেয়ে হতবাক হয়ে যায় বাপ-বেটারা! ছোট ছেলে নিজামের চিৎকারের পর বাপ-বেটারা কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়েন। ছেলেদের সরিয়ে কি এমন দেখতে পায় তালুকদার? রত্মাভরা কলসে আসলে কি ছিল? সেই কলসকি তারা পেয়েছিল? রহস্যের এক গোলকধাঁধা বাঁধিয়ে দিবে আপনার মনে।

এই উপন্যাসে পাঠক পরিচিত হবেন গ্রামীণ রাজনীতির প্রতিভূ আজমত চেয়ারম্যানের সাথে। ঘোষভিটা নিয়ে তালুকদার পরিবারের সাথে তিনি এক কুটিল খেলায় মেতে উঠেন। রঞ্জু মেম্বার কিংবা বহুরুপী আজগরকে দিয়ে চলে সাম্প্রদায়িকতার উন্মাদনা সৃষ্টির পায়তারা। লাইন ধরে ধরে এগিয়ে যেতে যেতে পাঠক যেন গ্রামের চিত্রাবয়ব চোখের সামনে দেখতে পাবেন।

দক্ষিণাঞ্চলের নদীতীরের নির্ভীক, সাহসী, সংগ্রামী নারীর প্রতীক রাবেয়া। স্বামী মতলেব খার রাগ উঠলে অসুরের শক্তি ভর করে শরীরে। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করে পরিশ্রম, ধৈর্য্য আর পরম মমতায় টিকিয়ে রেখেছেন সংসার। স্বামী সন্তান নিয়ে মায়ার সংসারে দুচালা টিনের ঘর তোলেন রাবেয়া। দক্ষিণাঞ্চলের নদী ভাঙনের শিকার বহু গৃহহীন বধূর জীবনের মত করে একদিন সুগন্ধার বুকে বিলীন হয়ে যায় রবায়ের স্বপ্নের বাড়ি। তবে নদী ভাঙার আগেই তীব্র বুকের ব্যাথা নিয়ে চোখ বন্ধ করেন রাবেয়া। সেই চোখ কি আর খুলেছিল এই মায়ার সংসারে?

একই উদ্দেশ্যে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সোহেল আর জুয়েল দুই ভাইয়ের মধ্যে সোহেল চরিত্রটির জট খুললেও জুয়েল চরিত্রকে লেখক খোলস মুক্ত করেননি। প্রশ্ন জাগবে মনে, সে বেঁচে আছে কি না, সে কোথায় আছে? সোহেল ফিরলেও জুয়েল কেন ফিরলো না?

ফকির বাড়ির মেয়ে মায়মুনা একজন চালাক আর ধৈর্যশীল নারী। মায়ের মৃত্যু খবর শুনে বাপের বাড়ি যাত্রা পথে যার সঙ্গে দেখা মিলবে পাঠকের। নদী পাড়ে দাঁড় করিয়ে রেখে লেখকের বর্ণনা, ‘‘নাতিদীর্ঘ যে নদীর ওপারেই থাকে তার প্রাণের মানুষেরা। অদূরে সবুজ চাদরে ঢাকা চানপুরার অস্পষ্ট অবয়ব দেখা যায়। কত কাছে, তবু কতদূরে।’’ এই এক নদী দূরত্ব কি মায়মুনা অতিক্রম করতে পেরেছিল? প্রিয় মায়ের মুখ দেখা হয়েছিল তার? নাকি মেনে নিতে হয়েছিল নিয়তি?

প্রায় দেড়শো বছর আগে নবগ্রামে মহেরউদ্দিন ফকির ভক্ত মুরিদ নিয়ে শুরু করেছিল এক নতুন তরিকা। চানপুরায় সেই তরীকার বিস্তৃত করেছিল লালমুদ্দিন ফকির। কালের পরিক্রমায় খলিফার টুপি এখন মায়মুনার বাবা খবিরউদ্দিনের মাথায়। মায়মুনার মা ও খবিরউদ্দিনের স্ত্রী'র মৃত্যুর পর গুরুত্বপূর্ণ চোতাসহ একটি মাটির হাঁড়ি গায়েব হয়ে যায়। কে নিয়েছে সেই হাঁড়ি? রহস্যের আরেক পর্ব ঘাপটি মেরে আছে এখানে।

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রামছাড়া আজগর হঠাৎ করে গ্রামে ফিরে আসে। এসেই বাজারে মার্কেট করা শুরু করলো। তার বিপুল অর্থকরির উৎস কি? কোথায় পেল সে এত টাকা? রত্মভরা কোন হাঁড়ির সন্ধান পায়নি তো? জানতে হলে চোখ সড়ানো যাবে না কালো অক্ষরের দিবানিশি উপাখ্যান থেকে!

হোক গ্রাম কিংবা শহর, ‘ভালবাসা’ মানুষের কালের সঙ্গী, স্বাক্ষী প্রতিটি যুগের। শাহজালাল আর নূরী'র ভালোবাসার কাহিনীও তেমনি অপূর্ব এক রোমান্টিকতার অনুভূতি জাগাবে পাঠকের হৃদয়ে। পুকুর ঘাটে নূরী আর শাহজালালের অনুভূতির বিনিময়ের বর্ণনা যেকোন পাঠককে চুম্বকার্ষিত করবে। সৎমায়ের কূটনীতি আর নূরীর অনিশ্চিত যাত্রা পাঠককে ক্ষণে ক্ষণে অনুরণিত করবে। শেষ পর্যন্ত কি ঘটেছিল? সব প্রশ্নের উত্তরকি মিলেছিল? জানতে হলে পড়তে হবে ‘দিবানিশি’।

মতলেব, আশ্বাব তালুকদার, খবিরউদ্দিন ফকির, আজগর, মায়মুনা ,আজমত চেয়ারম্যান ও নূরিদের জীবন যাপনের দিকে নজর দিলে আমরা আমাদের চারপাশেই এমন চরিত্রের উপস্থিতি টের পাই। কাল্পনিক এই চরিত্রগুলো যেন আমাদের চারপাশের মানুষগুলোরই প্রতিচ্ছবি। লেখকের কল্পিত দৃশ্যপট যেন এখনো জীবন্ত। হাজার বছরের রাত বাড়লেও গ্রামীণ রীতি-নীতিতে যেন কোন পরিবর্তন নেই।

একটা বইয়ে বহু চরিত্রের চিত্রায়ন তবুও কোনো চরিত্রের রঙ গুলিয়ে ফেলেননি লেখক। উপন্যাসে বহু চরিত্রের সফল প্রদর্শনী করেছেন লেখক। অন্য কোন খ্যতিমান লেখকের ধারা অনুসরণ না করে লেখক নিজস্ব ঢংয়ে অসাধারণ শব্দমালা গেথেঁছেন। যা নতুন লেখকদের জন্য অনুকরণীয়।

উপন্যাসটিতে লেখক মানবজীবনের নানা দিক সম্পর্কে তার বেশ কিছু দর্শন তুলে ধরেছেন। যেমন- “জগতে নিঃশব্দে কান্নার চেয়ে তীব্র কষ্টের আর কি কিছু আছে?” কিংবা “জগতে যত কঠিন কাজ আছে তার মধ্যে আনন্দ চেপে রাখা একটা।” আবার “সত্যের চাইতে মানুষ মিথ্যা বিশ্বাস করে বেশি।” মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত শ্রমজীবী মানুষ সম্পর্কে বলেছেন, “খেটে খাওয়া মানুষের আর কিছু থাকুক বা না থাকুক আত্মসম্মানবোধটা থাকে।” গ্রামের মানুষ সম্পর্কে লিখেছেন, “গ্রাম্য কৌতূহল বড় ভয়ানক। উত্তর না পাওয়া অবধি এরা যাবে না।” এই নশ্বর পৃথিবী থেকে মানুষের অনিবার্য প্রস্থান বাস্তবতা মেনে নিয়ে উল্লেখ করেছেন, “কারো না থাকায় সময় থেমে থাকে না। কারণ প্রকৃতি নিজেই শূণ্যতা পছন্দ করে না।”

লেখক বেশ কিছু রোমান্টিক উক্তিও করেছেন। যেমন- “খুনি, ধর্ষক, ডাকাতের মতো অপরাধীকেও আমরা ক্ষমা করে দেই, ফেরাই স্বাভাবিক জীবনে। কিন্তু ভালোবেসে অপরাধী মানুষগুলোকে আমরা সারাজীবন ক্ষমা করতে পারি না।” “প্রকাশ্য ভালোবাসার জন্য তুমুল কাতরতা থাকলেও হৃদয়ের অপ্রকাশ্য গভীরতা মাপার ক্ষমতা কি সবার থাকে?” এছাড়াও লিখেছেন, “খুব বেশি নিকটে থেকেও কেউ কেউ এক জনমের দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে না।” “অতি আপনজনের কাছে নিজেকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টার চেয়ে কষ্টের আর কিছু নেই।” “নিজের অপরাধবোধ কাটাতে অন্যকে কষ্ট দেওয়ার মানে হয়?”

উপন্যাসে লেখক পরম যত্নে নানা স্থানে সূক্ষ্ম বর্ণনা দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস এর ফলে পাঠক চানপুরা গ্রামটিকে জীবন্ত অনুভব করতে পারবেন। যেমন ঘোষ ভিটার মন্দিরের বর্ণনা দিতে যেয়ে লিখেছেন, ‘জ্বলতে জ্বলতে ক্ষয় হওয়া অসংখ্য মোমের শেষাংশ লেপ্টে আছে চারিধারে।’ আবার কেন ঘোষভিটা বিক্রি হল তার কারণ জানাচ্ছেন কৃষ্ণের মুখে, ‘পিঠ দেয়ালে ঠেইকা গেছে বইলাই জমি-জমা বেইচা কলকাতায় যাইতেছি।’ কৃষ্ণের জমি ভিটেমাটি বিক্রির বর্ণনায় মানবিক গল্প ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। এমনিভাবে ঘটনা ও আবহ বর্ণনায় লেখ মুন্সিয়ানার স্বাক্ষর রেখেছেন।

একই উপন্যাসে বিভিন্ন অনুভূতির সুন্দর প্রকাশ ঘটেছে। অনেক চরিত্রের করুণ পরিণতি পাঠককে অবশ্যই বিস্মিত করবে। তবে কিছু আঞ্চলিক শব্দ ব্যখার অভাবে পাঠক কিছুটা বিড়ম্বিত হবেন। এছাড়া আমার কাছে কিছু অসংগতিও লেগেছে। যেমন আশ্বাস তালুকদার চান না ‘হিন্দুপাড়ার অন্যরা বাড়ির ওপর দিয়ে এসে মন্দিরে পূজা দেবে।’ এ কারণে তিনি ছেলেদের ডেকে মন্দিরে ঢোকার পথে বাঁশের ঘন বেষ্টনী তৈরি করার নির্দেশ দিলেন। এই ঘটনার ঠিক আগেই লেখক জানাচ্ছেন, ‘সপ্তাহ না পেরুতেই চঞ্চলতা হারিয়ে পরিত্যক্ত এক ভূতুরে বাড়িতে পরিণত হয়েছে যেন।’ মন্দিরের বর্ণনায় জানালেন মনসার ঘটিতে পেচানো দুটো ভক্তির মালা শুকিয়ে চুপসে গেছে। দেবীকে দুধ দেওয়া বাটিটা কালচে হয়ে গেছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে, গত এক সপ্তাহে কি প্রতিবেশি হিন্দুরা পূজা দেয়নি? যদি না দিয়ে থাকে তবে বেড়া দেওয়ার প্রয়োজন কি? লেখকের প্রথম ধাপের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, অন্য হিন্দুরা এখানে পূজা দিতে আসেননি। তাহলে পূজারীদের আগমন ঢেকাতে বেস্টনি দেয়ার যুক্তিটি কতটা সঠিক? আসা করি লেখক এ বিষয়টিতে নজর দেবেন।

এর বাইরে বানান ভুলসহ (প্রথম সংস্করণ) ছোটখাটো যে ত্রুটি রয়েছে তা ছাপিয়ে গেছে বইয়ের অসাধারণ লেখায়। অন্যদিকে বইয়ের ফন্ট, বাঁধাই, পৃষ্ঠা সজ্জার জন্য অন্বেষা প্রকাশন প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। মোটাদাগে মনসা দেবীর বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কুসংস্কার ও কিছু নিষ্ঠুর পরিণতির বর্ণনা এবং সেই সঙ্গে ১৫০ বছর আগের মহেরউদ্দিন ফকিরের ধর্মবিশ্বাস উপন্যাসকে ভিন্ন মাত্রা দান করেছে। আশা করি পাঠক মুগ্ধ হবেন। হাজার বছর ধরে, পদ্মা নদীর মাঝি, তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসের মত করেই লেখক আব্দুলাহ আল ইমরানের লেখা ‘দিবানিশিও’ পাঠকদের হৃদয় কাড়বে বলে আশা রাখছি।

লেখক বার্তা: লেখক আব্দুলাহ আল ইমরানের জন্ম খুলনাতে। তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সোসাইটি'র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইমরান ইতিমধ্যেই পেয়েছেন যমুনা টেলিভিশন দুরন্ত বাংলাদেশ সম্মাননা। জিতেছেন ২১তম জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা'র চূড়ান্ত পর্বের শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার। পেশায় সাংবাদিক আব্দুলাহ আল ইমরানের এখন পর্যন্ত সাতটি বই প্রকাশিত হয়েছে। কালচক্র, এইসব ভালোবাসা মিছে নয়, হোম পলিটিক্স, উড়ে যায় নীল টিপ ও হৃদয়ের দক্ষিণ দুয়ার উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2021 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon