Bangla Runner

ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ | বাংলা

শিরোনাম

?????????? ?? ????? ??????? ?????????????? ?????? ???????????? ?????????? ??????? ????????????? ???????? ??? ?????, ????????? ????????? ???? ??? ????? ?????? ????? ?????? ???? ???? ????? ???? ??????: ????????? ??? ??? ????? ????? ???! ?????? ???????? ?????????? ???????, ????? ?? ????? ??? ??? ????? ??????? ???????? ???? ??????? ?-???? ??????? ??????? ???? ? ???? Important Quotations from Different Disciplines
Home / ???????

প্রাথমিক শিক্ষা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফ্রি খাবার: দুর্নীতির নতুন দ্বার উন্মোচন করবে

তালহা মাহমুদ
শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯ Print


‘জাতীয় স্কুল নীতি-২০১৯’ অনুযায়ী দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হবে।  উদ্দেশ্য, ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি। খাবারের আইটেমে থাকবে গরম খাবার বা সিদ্ধ ডিম, কলা আর রুটি। অর্থাৎ এই খাবার ধনী গরিব সকলেই নির্বিশেষে পাবে। যে ছেলেটিকে তার মা দারিদ্রতার কারণে এক মুঠো ভাত মুখে তুলে না দিয়ে খালি পেটে স্কুলে পাঠিয়েছে সে যেমন পাবে আবার যে ধনীর দুলাল সকালে স্যূপ, দুধ-কলা খেয়ে এসেছেন সেও পাবে।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, এটা সরকারের চরম একটা ভুল সিদ্ধান্ত। দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার অসংখ্য ভুলত্রুটি রয়েছে সে দিকে নজর দেয়া দরকার। প্রায়শই দেখা যায় যে স্কুল ঘরে যায়গা না হওয়ায় খোলা আকাশে শিক্ষক ছাত্রদের ক্লাস করাচ্ছেন। অসংখ্য বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভবন নাই। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সরঞ্জামাদির আধুনিকীকরণ দরকার। অন্য সব দেশে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা যে বেতন পান সে তুলনায় আমাদের দেশের শিক্ষকদের বেতন নগণ্য।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। তারপর কোটা ব্যবস্থা ত আছেই। এতে তুলনামূলক কম যোগ্যতাসম্পন্ন বহু ব্যক্তি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। শিক্ষক সংকট রয়েছে অনেক বিদ্যালয়ে। সরকার ফ্রি খাবার প্রদান করলে তা প্রাথমিক শিক্ষা খাতে নতুন দুর্নীতির দ্বার উন্মোচন করবে। খাবার কেনা, তৈরি করা, প্যাকেট করা,বন্টণ করা সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সুযোগ থাকবে। এমনও হতে পারে যে ভেজাল খাবার দেয়ায় স্কুলের ছাত্র শিক্ষকদের হাসপাতালের দৌঁড়াতে হল।

গরীবের ঘোড়া রোগ যেরকম সরকারের খাবার প্রদানের নীতিও সেরকম। প্রাথমিক স্কুলের ছাত্র সর্বোচ্চ ৩/৪ ঘন্ঠা স্কুলে ব্যয় করে। এতে মন হয় না যে তাদের কোনো খাবার দরকার। আমরা ত চারআনা দামের একটা চকলেট অথবা আটআনা দানের একটা আইচক্রিম দিয়া সারাদিন স্কুলে কাটিয়েছি। খাবার বিতরণের জন্য শিক্ষকদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে। ঘটনা এমনও ঘটতে পারে যে, ছাত্ররা খাবার পায়নি কিন্তু প্রধান শিক্ষকের বাসায় খাবার ১০০ প্যাকেট কিংবা অমুক জেলার ইউএনও প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের খাবারের পাঁচকেটি মেরে দিয়েছেন।

একটা স্কুলে ২৫০-৩০০ শিক্ষার্থী হলে তাদের খাবার ম্যানেজমেন্টের জন্য অবশ্যই আলাদা একজন কর্মী দরকার হবে। অন্যথা শিক্ষকদের ক্লাস করানো বাদ দিয়ে এই কাজ করতে হবে। পুরো দেশ ভরা ভেজাল খাদ্যে আর আপনি ফ্রি খাবার দিয়ে ছাত্রদের পুষ্টিগুণ বাড়াবেন? একথা মীর জাফরও বিশ্বাস করবে না। ফ্রি খাবার প্রদান করার চেয়ে বরং প্রশ্নফাঁস রোধের দিকে নজর দেওয়া উত্তম হবে বলে মনে করি। সুতরাং এ ধরণের  নীতি বাদ দিয়া সুপরিকল্পিত ও সুচিন্তিত নীতি গ্রহণের জোড় দাবি জানাচ্ছি।

তালহা মাহমুদ: শিক্ষার্থী আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

[প্রিয় পাঠক, মুক্তমতে প্রকাশিত লেখার বিষয়বস্তু, রচনারীতি ও ভাবনার দায় একান্ত লেখকের। এ বিষয়ে বাংলা রানার কোনোভাবে দায়বদ্ধ নয়। মুক্তমত কিংবা বাংলা রানারে প্রকাশিত কোন মতামতের প্রতিক্রিয়া পাঠাতে পারেন brtube717@gmail.com এই ঠিকানায়]

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2024 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon