Bangla Runner

ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১ | বাংলা

শিরোনাম

মানুষের হাড়, খুলি, কঙ্কালে তৈরি হয়েছে যে গীর্জা কান্নার গল্প রেখে গেলেন হাসির বিজ্ঞাপনের মাসুদ আল মাহদী অপু মানুষ থেকে পাথর হয়ে যাচ্ছে এক শিশু নিয়মিত সাহিত্যবিষয়ক লেখা প্রকাশ করছে দূর্বাঘাস ত্বকী: একটি বিচারহীনতার প্রতীক পার্কের দাম একটি আস্ত শহরের চেয়েও বেশি! বঙ্গবন্ধুর মননে পিছিয়ে পড়া মানুষ নীতিতে আপোষহীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শতবর্ষে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ঢাবি আলাদিনের প্রদীপে ভয়ঙ্কর ফাঁদ
Home / মুক্তমত

পুরস্কার জয়ী লেখা

বঙ্গবন্ধুর মননে পিছিয়ে পড়া মানুষ

এম.এস.আই খান
রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১ Print


সেবার ভালো ফসল হয়নি। গরিব কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ, ঘরে স্ত্রী-সন্তানদের হাহাকার। এমনি কিছু অসহায় কৃষককে বাড়িতে ডেকে এনে বাবার অনুমতি ছাড়াই গোলা কেটে ধান বিলিয়ে দিয়েছিল এক খোকা। ছেলের এই কাণ্ড শুনে বাবা যখন কিছুটা শাসানির সুরে কারণ জানতে চাইলেন, তখন খোকার উত্তর ছিল, গরীবেরও পেট আছে। তাদের ঘরে ধান নেই। আমাদের বেশি ছিলো, তাই কিছু দিয়ে দিয়েছি। মানুষের জন্য খোকার এই দরদবোধটিই হয়ত খোকাকে পরবর্তী জীবনে মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ করে গড়ে তুলেছিল।

বলছি ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গপ্রদেশে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্ম নেয়া খোকার কথা, বিশ্বের মানুষের কাছে যার পরিচয় ‘শেখ মুজিবুর রহমান’। শেখ মুজিব ছিলেন তাঁর বাবা শেখ লুৎফর রহমান ও মা শেখ সায়েরা খাতুনের ৪ কন্যা ও ২ পুত্রসন্তানের মধ্য তৃতীয়। মুজিব শব্দটির অর্থ উত্তরদাতা। টুঙ্গিপাড়ার এই খোকা মুজিবই পরবর্তীকালে বাঙালি জাতির মুখপাত্র হিসেবে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন।

১৯২৭ সালে সাত বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে তাঁর আনুষ্ঠানিক ছাত্র জীবন শুরু হয়। ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর মননে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ‘মানবিকতাবোধ’ ও ‘ন্যায্যতার প্রশ্নে প্রতিবাদী’ চরিত্র ফুটে ওঠে। দশ বছর বয়সে নিজের গায়ের জামা খুলে অন্যকে পরিয়ে দিয়ে কিশোর মুজিব মানবতার অনন্য বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলেন। শীতার্ত মানুষকে দেখে নিজের চাদর খুলে পরিয়ে দেয়া ছাড়াও তিনি নিজে কিভাবে বাড়ি ফিরবেন সেই কথা না ভেবে স্কুলে বৃষ্টিভেজা বন্ধুকে দেখে নিজের ছাতাটি দিয়ে দেন। এর মধ্য দিয়ে যে বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে তা সব সময়ের কিশোরদের জন্য অনুকরণীয় হবার মত।

কিশোর বয়সে গোপালগঞ্জে স্বদেশী আন্দোলনের এক জনসভায় জনতার ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ দেখে কিশোর মুজিব ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত হন।  বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তিনিও যোগ দিয়েছিলেন। তৎকালীন সমাজ জীবনের জমিদার, তালুকদার ও মহাজন কর্তৃক প্রজাদের ওপর অত্যাচার, অবিচার, শোষণ-প্রেষণ, নির্যাতন, নিপীড়ন দেখে কিশোর শেখ মুজিব ব্যথিত হয়ে ওঠতেন।[০১] এ প্রসঙ্গে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘‘ইংরেজদের এদেশে থাকার কোন অধিকার নেই।”[০২] ছেলেবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু ন্যায্যতার প্রশ্নে প্রতিবাদী আচরণ রপ্ত করেছিলেন।

১৯৩৮ সালে গোপালগঞ্জে গিয়েছিলেন তখনকার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক[০৩]। এ সময়কার একটি কিংবদন্তি রয়েছে। লম্বা ছিপছিপে গড়নের, ব্যাক ব্রাশ করা ঘন কালো চুলের ডানপিটে মুজিবসহ কয়েকজন ছেলে মুখ্যমন্ত্রীর পথরোধ করেন। শেরেবাংলার ‘তোমরা কারা, কী চাও?’ প্রশ্নের জবাবে মুজিব উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমরা গোপালগঞ্জ মাথুরানাথ ইনস্টিটিউট মিশনারি হাই স্কুলের ছাত্র। স্কুলের ছাদে ফাটল ধরেছে। ছাদ সংস্কারের আর্থিক সাহায্য না দিলে রাস্তা ছাড়ব না।[০৪]

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ছিল জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়। এই অধিকার আদায়ের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছোট বয়স থেকে শুরু করে সারাটা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি শোষিত মানুষের স্বপক্ষে সবসময় অত্যন্ত ক্ষুরধার, শক্তিশালী, বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত।  এক ভাগে শোষিত আর অন্য ভাগে শাসক। আমি শোষিত মানুষের পক্ষে। বঙ্গবন্ধুর আর একটি বৈশিষ্ট্য ছিল মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং এই ভালোবাসাই তাকে তাড়িয়ে নিয়ে গেছে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে।[০৫]

১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে। এমন দিন নাই রাস্তায় লোক মরে পড়ে থাকতে দেখা যায়নি। সে সময় বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক মুসলিম লীগ কাউন্সিলের সদস্য হন এবং মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর (প্রাদেশিক মুসলিম লীগের রিলিফ কমিটির সম্পাদক) সঙ্গে মানবতার সেবায় কাজ করেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নির্দেশে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জীবন বাঁচাতে লঙ্গরখানা খুলে দিনরাত কাজ করে যান শেখ মুজিব। বঙ্গবন্ধু নিজেই সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন, ‘‘আমিও লেখাপড়া ছেড়ে দুর্ভিক্ষপীড়িতদের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়লাম। অনেকগুলি লঙ্গরখানা খুললাম। দিনে একবার করে খাবার দিতাম। মুসলিম লীগ অফিসের টেবিলে শুয়ে থাকতাম।” [০৬]

১৯৪৭ এ দেশ ভাগের পর নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানে চলে এসে বঙ্গবন্ধু নতুন দমে রাজনীতি শুরু করেন। ছাত্র রাজনীতি করলেও বঙ্গবন্ধু ন্যায্যতার প্রশ্নে অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষের পক্ষেও লড়েছেন। দাবি-দাওয়া নিয়ে সৃষ্ট অসন্তোষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা ১৯৪৯ সালে আন্দোলন-ধর্মঘট শুরু করেন। ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল শেখ মুজিবকে। তাকে জরিমানা ও মুচলেকা দিয়ে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখার শর্ত দেয়া হয়েছিল, কিন্তু ছোটবেলা থেকে ন্যায্যতার প্রশ্নে আপোষহীন মুজিব অন্যায় মুচলেকা দিতে রাজি হননি (৬১ বছর পর ২০১০ সালে ছাত্রত্ব বাতিলের ওই আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।[০৭]

কর্মচারীদের জন্য নিজের ছাত্রত্ব হারানো মুজিব লড়াই করেছেন পাকিস্তানের বৈষম্যের বিরুদ্ধে।  ৫৫ বছরের জীবনে এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ ১২ বছরের বেশি কাটিয়েছেন কারাগারে।[০৮] এই বন্দিত্ব তিনি ভোগ করেছেন দুঃখী মানুষের, পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করতে গিয়ে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি সংসার জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন অন্য যে কোন পেশায় নিশ্চিন্ত জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু তিনি তা করেন নাই মানুষের কথা ভাবেন বলে।

বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এই ছয় দফা আন্দোলন করেতে গিয়ে তিনি বারবার অন্তরীণ হয়েছেন। ‘‘আমাদের বাঁচার দাবি ৬ দফা কর্মসূচি’” শীর্ষক এক লেখায় বঙ্গবন্ধু বলেছেন, “মজলুম দেশবাসীর বাঁচার দাবীর জন্য সংগ্রাম করার চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু আছে বলিয়া আমি মনে করি না।”[০৯]

১৯৭০ সালেল সাধারণ নির্বাচনের আগে বেতার-টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘‘ব্যক্তিগত কৈফিয়ত হিসেবে জনগণের খেদমতে একটিই মাত্র আমার বক্তব্য: নিজের জীবনের বিনিময়ে যদি এদেশের ভাবি নাগরিকদের জীবনকে কণ্টকমুক্ত করে যেতে পারি, আজাদী আন্দোলনের সূচনাতে এদেশের মানুষ মনের পটে যে সুখী সুন্দর জীবনের ছক এঁকেছিলো, সে স্বপ্নের বাস্তব রূপায়নের পথ কিছুটাও যদি প্রশস্ত করে যেতে পারি, তাহলেই আমার সংগ্রাম সার্থক মনে করব।”

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণসহ অধিকাংশ বক্তৃতাই তার নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষায় করা, যা মূলত পিছিয়ে পড়া মানুষের সহজ-সাধারণ কথ্য ভাষা। তার খাবারও ছিল সাধারণ বাঙালীর মতই। ভাত, মাছের ঝোল আর সবজি ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রিয় খাবার। [১০]

দুই.
পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরে এসে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘‘আজ আমার জীবনের সাধ পূর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।...বাংলার মানুষ মুক্ত হাওয়ায় বাস করবে, খেয়ে পরে সুখে থাকবে এটাই ছিলো আমার সাধনা।...এ স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়, এ স্বাধীনতা আামর পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের যুবক যারা আছে তারা চাকরি না পায়।” স্বাধীন দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে বঙ্গবন্ধু খাদ্যহীন, বস্ত্রহীন ও জীবিকাহীন মানুষের কথা বলেছেন, পরম আনন্দের মুহূর্তেও তিনি তাদের কথা ভোলেন নাই। আর তার যত দুঃখ ছিল তার সবটাই তিনি ভোগ করেছেন এই মানুষের জন্য। বঙ্গবন্ধুকে এক বিদেশী জিজ্ঞেস করেছিল, “আপনার দোষ কোথায়?” বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন-  “আমার সবচে বড় ও একমাত্র দোষ হলো, আমি আমার জনগণকে বেশি ভালোবাসি।”ঢাকা স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘‘বাংলার জনসাধারণ কোন মানুষের বিরুদ্ধে নয়, বাংলার জনগণ জালিমের বিরুদ্ধে, যেখানেই তার পয়দা হোক না কেন।...তোমারা জান তোমাদের আমি ভালবাসি, আর আমিও জানি তোমরা আমাকে ভালবাসো। তোমাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ রইলো- যে দিন তোমরা যদি সন্দেহ কর যে, আমার ভালবাসার মধ্যে কোন কৃপণতা আছে সেদিন আমায় বলে দিও আমি চিরদিন তোমাদের বিদায় দিয়ে যাব। আমি সব ত্যাগ করতে পারি, তোমাদের ভালবাসা আমি ত্যাগ করতে পারি না।”[১১]

বঙ্গবন্ধু আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। তার প্রায় প্রতিটি ভাষণে পিছিয়ে পড়া মানুষের কথা থাকত। ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে দেয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘‘আমি যদি বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারি, আমি যদি দেখি বাংলার মানুষ দুঃখী, আর যদি দেখি বাংলার মানুষ পেট ভরে খায় নাই, তাহলে আমি শান্তিতে মরতে পারবোনা-পারবোনা-পারবোনা।”

শোষণহীন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে যে বাকশালের কথা বলে সমালোচনা করা হয় সেই বাকশালও ছিল এই দেশের মেহনতি মানুষের নামে- “বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ”। যে নেতা তার প্রায় সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য খেটে গেছেন তিনি কেন অগণতান্ত্রিকতার পথে হাটলেন? বঙ্গবন্ধুর আমলের রাষ্ট্রদূত এবং অর্থমন্ত্রী যশস্বী ইতিহাসবিদ ড. এ.আর মল্লিক এই প্রশ্ন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুকে। ড. মল্লিকের আত্মজৈবনিক গ্রন্থ থেকে সে কথা জানা যায়। বঙ্গবন্ধুর এ.আর মল্লিক-কে উত্তর দিয়েছিলেন, “ডাক্তার সাহেব (বঙ্গবন্ধু পিএইচডি ডিগ্রিধারীকে ডাক্তার বলতেন) কয়টা দিন সময় দেন, দেখবেন আমি আবার গণতন্ত্রে ফিরে যাব।”[১২] কিন্তু বঙ্গবন্ধু সে সময় পাননি।

১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি না ক্ষমতা বন্দুকের নলে। আমি বিশ্বাস করি ক্ষমতা জনগণের কাছে।” আরোও বলেছিলেন, “বঙ্গবন্ধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে নাই। বঙ্গবন্ধু রাজনীতি করেছে দুঃখী মানুষকে ভালবেসে। রাজনীতি করেছে শোষণহীন সমাজ কয়েম করার জন্য।... আমরা চাই শোষিতের গণতন্ত্র, আমরা চাই না শোষকের গণতন্ত্র।”

দেশ স্বাধীন হবার পর ভয়াবহ এক পরিস্থিতি সামাল দেয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। বঙ্গবন্ধু মানুষ ছিলেন ফলে মানবিক সীমাব্ধতা থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে বঙ্গবন্ধু সময় পেয়েছিলেন ২৩ বছর (১৯৪৭-১৯৭০) আর স্বাধীন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন মাত্র তিন বছর। ফলে ২৩ বছরের নেতৃত্বে গড়া স্বদেশকে তিনি স্বমহিমায় সাজানোর মত সময় পাননি। সেই সময় পেলে আজ হয়ত মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে শ্রমিক আসত কাজ করতে। সেই সম্ভাবনাকে ধূলোয় লুটিয়ে দিয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট।

শেষ কথায় বলব, শাসক বঙ্গবন্ধু হয়ত সময়ের অভাবে তার দ্বিতীয় স্বপ্নকে সাজিয়ে যেতে পারেননি। কিন্তু দুঃখী বাঙালির জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রথম স্বপ্ন তিনি সফল করে গেছেন, এটিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা। একজন বঙ্গবন্ধুর অভাবে আজ রোহিঙ্গারা যেমন ভাগ্য বিড়ম্বিত অসহায় আশ্রিত জাতি, একজন বঙ্গবন্ধুর অভাবে আমরাও থেকে যেতাম পরাধীন-পরাশ্রয়ী শোষিত জাতি। তাই কিংবদন্তি বাঙালি কবি ও প্রাবন্ধিক অন্নদাশঙ্কর রায়ের মতই বলতে হয়-

“যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান”।

এম.এস.আই খান: শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

গ্রন্থপঞ্জি

[০১] জাতির পিতার ছেলেবেলা- আহমেদ উল্লাহ্, ইনকিলাব, প্রকাশ: ১৩ মার্চ, ২০২০- https://www.dailyinqilab.com/article/274779/জাতির-পিতার-ছেলেবেলা
[০২] অসমাপ্ত আত্মজীবনী- শেখ মুজিবুর রহমান, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, তৃতীয় মুদ্রণ: ফেব্রুয়ারি ২০১৭, পৃষ্ঠা- ০৯
[০৩] অসমাপ্ত আত্মজীবনী- শেখ মুজিবুর রহমান, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, তৃতীয় মুদ্রণ: ফেব্রুয়ারি ২০১৭, পৃষ্ঠা- ১০)
[০৪] সেই স্কুল এই কলেজ- রাহেনুল ইসলাম, কালের কণ্ঠ, ১৭ মার্চ ২০২০, পৃষ্ঠা- ১৫
[০৫] ‘জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায় ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন’- বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, প্রকাশ: নভেম্বর ১৯, ২০২০- https://www.banglanews24.com/education/news/bd/824613.details
[০৬] অসমাপ্ত আত্মজীবনী- শেখ মুজিবুর রহমান, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, তৃতীয় মুদ্রণ: ফেব্রুয়ারি ২০১৭, পৃষ্ঠা- ১৭-১৯)
[০৭] শেখ মুজিবের ছাত্রত্ব বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার- ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, ঢাকা: বিবিসি বাংলা, ১৪ অগাস্ট ২০১০
[০৮] কারাগারে বঙ্গবন্ধুর ৪৬৮২ দিন- শহীদুল ইসলাম, (ঢাকা: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২০)
[০৯] কারাগারের রোজনামচা- শেখ মুজিবুর রহমা, (ঢাকা: বাংলা একাডেমি, চতুর্থ মুদ্রণ, আগাস্ট ২০১৭) পৃষ্ঠা- ৩২০
[১০] বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা-ভোরের কাগজ(অনলাইন), প্রকাশিত: মার্চ ১৭,২০২০- https://www.bhorerkagoj.com/2020/03/17/বঙ্গবন্ধুর-ছেলেবেলা/
[১১] (বঙ্গবন্ধুর ভাষণ) ঢাকা স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ, Bangladesh Film Archive, [https://youtu.be/GN4F1R_KQH8]
[১২] বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ- সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, (ঢাকা: একুশে বাংলা প্রকাশন, প্রথম সংস্করণ, ২০১৫) পৃষ্ঠা-৭০-৭১

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2021 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon