Bangla Runner

ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ | বাংলা

শিরোনাম

?????????? ?? ????? ??????? ?????????????? ?????? ???????????? ?????????? ??????? ????????????? ???????? ??? ?????, ????????? ????????? ???? ??? ????? ?????? ????? ?????? ???? ???? ????? ???? ??????: ????????? ??? ??? ????? ????? ???! ?????? ???????? ?????????? ???????, ????? ?? ????? ??? ??? ????? ??????? ???????? ???? ??????? ?-???? ??????? ??????? ???? ? ???? Important Quotations from Different Disciplines
Home / ???????

ভিসিদের প্রধান লক্ষ্য থাকে সরকারের প্রতি আনুগত্য

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯ Print


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হল উচ্চ শিক্ষার জন্য আমাদের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দিক। কিন্তু রাষ্ট্রীয় মনোযোগ এই ক্ষেত্রে দেওয়া হচ্ছে না। এইখানে যাদেরকে ভিসি নিয়োগ করা হয় প্রায়ক্ষেত্রেই দেখা যায় তারা তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন না। তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। এই আনুগত্য প্রমাণের জন্য তারা ছাত্রদের প্রয়োজনকে আর গুরুত্ব দেন না। সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখালে তাদের আর কিছু না করলেও চলে।

এখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুব ভালভাবে বিকশিত হচ্ছে। এই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে একদিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী হবে এটা মাথায় নাই। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বিকশিত হচ্ছে, কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানও উন্নত। ইংলিশ মিডিয়ামে যে ছেলে-মেয়েরা পড়ে তাদের বড় অংশই এই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যায়। যারা সাধারণত একটু বিত্তবান ঘরেরই হয়ে থাকে। অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত মধ্যবিত্ত যায়। এই মধ্যবিত্তের শিক্ষার প্রতি একটা সামাজিক উদাসীনতা আছে। সমাজের যারা কর্তা, রাজনীতির যারা কর্তা তারা এই দিকটাতে দেখছে না। বুয়েটের মত প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ক্লাস হচ্ছে না, পরীক্ষা হচ্ছে না। জাহাঙ্গীরনগরে অচলাবস্থা, অন্যান্য জায়গায় ভিসিরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এই জায়গাগুলোতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না।

যেভাবে প্রাইভেট পাবলিকের মধ্যে একটা বৈপরীত্ব হচ্ছে। পাবলিক মানেই খারাপ, প্রাইভেট মানেই ভাল- এটি কিন্তু আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। যেমন- চিকিৎসা ক্ষেত্রে পাবলিক ক্ষেত্রগুলো অত্যন্ত দুর্বল। ভাল চিকিৎসার জন্য প্রাইভেটে যেতে হয়। তেমনি শিক্ষা ক্ষেত্রেও পাবলিকটা মনে হয় আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে আসছে। এটাই হচ্ছে সবচাইতে আশঙ্কার কথা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যায়গুলো বসে যাচ্ছে, এ ব্যাপারে বেশ উদাসিনতা দেখা যাচ্ছে।

উপাচার্য পদে যোগ্য লোককে দেয়া হচ্ছে না। প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা জবাবদিহিতা থাকা দরকার। প্রথম জবাবদিহিতা ছাত্রদের কাছে দ্বিতীয় জবাবদিহিতা শিক্ষকদের কাছে। এই জবাবদিহিতা নাই, এখন প্রশাসন যা ইচ্ছে তাই করছে। সরকার সমর্থিত যে ছাত্র সংগঠন তাদেরকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখে এবং তারাই নানানভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলতে যদি ছাত্র সংসদ নির্বাচন থাকত, তাহলে ছাত্ররা সমান অংশগ্রহণের সুযোগ পেত। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ছাত্র সংসদ দেয়া হয়েছে সেটার কোন কার্যকারিতা নাই, কোন কাজ করতে পারছে না। শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হয় প্রতি বছর কিন্তু দায়িত্ব পালন করে না বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠ জীবন পরিচালনা করার জন্য। তারা জবাবদিহিতার জায়গায় উৎসাহী না। তারা প্রশাসনকে সমর্থন করে এবং প্রশাসনের সমর্থক যারা তারাই নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত হয় এই কারণে যে, নিয়োগের ব্যাপারে আনুগত্যের বিষয় আছে। শিক্ষকদের পদোন্নতি, সুযোগ সুবিধা এগুলোও আনগত্যের ভিত্তিতেই হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এভাবে অকার্যকর হয়ে গেলে আমরা একটা ভয়ঙ্কর সংকটের দিকে যাব।
লেখক: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2024 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon