Bangla Runner

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ | বাংলা

শিরোনাম

শীতকালীন ত্বকের যত্নে পাঁচ পরামর্শ কম্পিউটারের কিছু শর্টকাট ভালো চাইলে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দৌড়াতে শুরু করুন বিশ্বের বৃহত্তম সাত স্টেডিয়াম যুদ্ধ লাগলেই কেন বাড়ে স্বর্ণের দাম? তথ্যপঞ্জী লেখার নিয়ম বিতর্কের বিষয় ব্যাংক বিতর্কে শব্দ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে একজন ভাল লেখক হতে চাইলে এক নজরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Home / ক্যাম্পাস

বাইরে ছাত্র ইউনিয়নের মানববন্ধন

ঢাবির বাজেট পেশ: বিএনপিপন্থী শিক্ষকের বক্তব্য নিয়ে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ Print


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৮১০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। এতে গবেষণার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৪০ কোটি ৮০ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ০৪ শতাংশ। ২৬ জুন, বুধবার বিবেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক অধিবেশনে এ বাজেট উপস্থাপন করা হয়। সিনেট চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন।

প্রস্তাবিত বাজেটের ৮১০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ৬৯৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খাত থেকে ৬৬ কোটি টাকা আসবে। বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতি ধরা হয়েছে ৪৫.৭৭ কোটি টাকা। গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৭৬১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সে হিসেবে এ বছর বাজেট বেড়েছে ৬৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এবছর ২৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা মোট বাজেটের ৩১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ভাতাদি বাবদ ১৯৫ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা যা মোট ব্যয়ের ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। পণ্য ও সেবা বাবদ ১৭১ কোটি ৭৬ টাকা যা মোট ব্যয়ের ২১ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিশেষ অনুদান খাতে ১০ কোটি ৫৯ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা যা মোট ব্যয়ের ১ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং অন্যান্য অনুদান খাতে ১৭৫ কোটি ৬৯ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা যা মোট ব্যয়ের ২১ দশমিক ৬৮শতাংশ।

অধিবেশনে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান, সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, নির্বাচিত রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। à¦…ধিবেশনের কার্যসূচিতে ছয়টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলো হলো- উপাচার্যের অভিভাষণ, কোষাধ্যক্ষের বাজেট উপস্থাপন, পূর্ববর্তী অধিবেশনের কার্যবিবরণী অনুমোদন, ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক বিবরণী বিবেচনা, জগন্নাথ হল ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মনোনয়ন এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য ছয়জনের একটি প্যানেল অনুমোদন। বাজেট উপস্থানের পর সিনেট সদস্যগণ বক্তব্য রাখেন। পরে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত সিনেট অধিবেশন মুলতবি করা হয়।

অভিভাষণে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে প্রায় তিন দশক পর ‘ডাকসু ও হল সংসদ’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিনেটের আজকের অধিবেশনে পাঁচ সদস্যের ছাত্র প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। আজকের দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক পরম গৌরবের দিন। ১৯৯৩ সনের পর আবারো সিনেট তার পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল। ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণ এবং শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডাকসু’র আজীবন সদস্য পদ প্রদানের জন্য তিনি ডাকসু নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।

উপাচার্য বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ক্রয় ও নান্দনিক ক্যাম্পাস বিনির্মাণসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মাস্টার প্লান’ তৈরীর কাজ চলছে। একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে ‘সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা’ নীতি অনুসৃত হচ্ছে। এ সবগুলোই কালক্রমে এসডিজি বাস্তবায়নে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এদিকে মোট বাজেটের ৫ দশমিক ০৪ শতাংশ গবেষণায় বরাদ্দকে ডাকসুর প্রতিনিধি ও বেশ কয়েকজন সিনেট সদস্য অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন। ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী এই গবেষণার বাজেটকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে গবেষণায় বাজেট বাড়ানোর দাবি জানান। এছাড়া শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি কমপ্লেক্সকে আধুনিকায়ন করার প্রস্তাব করেন।

বিএনপিপন্থী শিক্ষকের বক্তব্য নিয়ে উত্তেজনা:
এদিকে সিনেট অধিবেশন চলাকালীন বিএনপিপন্থী প্যানেল সাদাদলের শিক্ষক অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানের বক্তব্য নিয়ে উত্তেজনাকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সিনেট সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, অধ্যাপক লুৎফর রহমান বক্তব্যের সুযোগ পেয়ে প্রথমে উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারপর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। পরে ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের কথা তুলে ধরে 

উপাচার্যকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি ডাকসু নির্বাচনে ভালো দিকগুলোই তুলে ধরলেন। এই নির্বাচনকে ঘিরে যেসব অনিয়ম হয়েছে, আমি আশা করেছিলাম আপনি (উপাচার্য) তাও তুলে ধরবেন। কিন্তু সে বিষয়গুলো আপনার বক্তব্যে আসেনি।’ ‘নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি হয়েছে’ এমন কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত কয়েকজন সিনেট সদস্য টেবিলে হাত দিয়ে শব্দ করে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

এসময় সিনেটে একধরনের হট্টগোল ও ‍উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন উপাচার্য তাকে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার কথা বলেন। এরপর সিনেট সদস্যদের তোপের মুখে অধ্যাপক লুৎফর রহমান ‘এতক্ষণ বিরক্তির সঙ্গে আমার বক্তব্য শোনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ’ বলে বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, আমরা আপনার বক্তব্য মনোযোগের সঙ্গে শুনেছি। তাই আপনার ‘এতক্ষণ বিরক্তির সঙ্গে আমার বক্তব্য শোনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ’ এই বাক্যটি এক্সপাঞ্জ করা হলো। তারপর সিনেটে অন্য সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।

সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন:
এদিকে সিনেট অধিবেশন চলাকালীন বিভিন্ন দাবি নিয়ে সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। সেখানে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব দাসসহ অন্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের বহন করা ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াও’, ‘আবাসন সংকট নিরসনে বরাদ্দ দাও’, ‘লাইব্রেরী ২৪ ঘন্টা চালু রাখতে হবে’, ‘গেস্টরুম সংকটের সমাধান চাই’, ‘সকল উন্নয়ন ফি বাতিল কর’, ‘সকল রুটে রাত ৮টায় বাস চাই’, ‘ক্যাম্পাসে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর’ ইত্যাদি।

এসব সমস্যার কথা উল্লেখ করে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, এগুলো সমাধানে সিনেটের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি হবে বলেও মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2021 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon