Bangla Runner

ঢাকা , রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪ | বাংলা

শিরোনাম

অনুর্ধ্ব ত্রিশ বয়সীরা বক্তব্য দিয়ে জিতুন ৬০ হাজার টাকার পুরস্কার রম্য বিতর্ক: ‘কুরবানীতে ভাই আমি ছাড়া উপায় নাই!’ সনাতনী বিতর্কের নিয়মকানুন গ্রীষ্ম, বর্ষা না বসন্ত কোন ঋতু সেরা?  বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা পাঠানোর ই-মেইল বিশ্বের সবচেয়ে দামি ৫ মসলা Important Quotations from Different Disciplines স্যার এ এফ রহমান: এক মহান শিক্ষকের গল্প ছয় সন্তানকে উচ্চ শিক্ষত করে সফল জননী নাজমা খানম ‘সুলতানার স্বপ্ন’ সাহিত্যকর্মটি কি নারীবাদী রচনা?
Home / ক্যাম্পাস

ভর্তি পরীক্ষার টাকা বণ্টন নিয়ে কুবিতে অসন্তোষ

কুবি প্রতিনিধি
রবিবার, ৩০ জুন ২০১৯ Print


89K

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে বি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার টাকা বণ্টন নিয়ে কর্মচারীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট আয়ের উদ্ধৃত থেকে আনুপাতিক হারে কম টাকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিটে কাজ করা কর্মচারীরা। বি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা কমিটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলছেন, ‘অমানবিকভাবে আমাদেরকে কম টাকা দেওয়া হয়েছে’।

তবে বি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার আহ্বায়ক, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেছেন, ‘‘আমি কারও প্রতি অবিচার করিনি। যাকে দিয়ে যতটুকু কাজ করানো হয়েছে আমি তাকে ততটুকুই পারিশ্রমিক দিয়েছি।”

বি ইউনিটের মোট কর্মচারী ছিলো ১৪ জন। ভর্তি পরীক্ষার পর উদ্ধৃত টাকা হতে কর্মচারীদের ৩০০০ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। তবে কর্মচারীদের অভিযোগ অতিরিক্ত পারিশ্রমিক তাদের মাঝে ঠিকভাবে বণ্টন করা হয় নি। টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে ১৪ জন কর্মচারীর মধ্যে ১২ জন কর্মচারিই তাদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের অর্থ গ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে।

বি ইউনিটে কাজ করা কয়েকজন কর্মচারী জানান, ভর্তি পরীক্ষার কাজ চলাকালীন সময় কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য খাবার আনয়ন ও পরিবেশন করে নিজেরা খাবার না পাওয়া, অফিস সময়ের বাইরেও কাজ করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে তারা নিজেদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বি ইউনিটের জন্য বরাদ্দকৃত যে ড্রাইভার ছিল তারও সঠিক পারিশ্রমিক দেয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন।

কর্মচারীদের দেওয়া তথ্যমতে, ভর্তি পরীক্ষায় এ ইউনিটের কর্মচারীরা জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২২ হাজার ও সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা এবং সি ইউনিটের কর্মচারীরা জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১২ হাজার ও সর্বনিম্ন ৭ হাজার ৯০০ টাকা পেয়েছেন। আর বি ইউনিটের কর্মচারীদের জনপ্রতি সর্বোচ্চ মাত্র ০৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, আমরা ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী, মাস শেষে অল্প বেতন পাই। এই আমাদের মত মানুষের টাকা তারা কিভাবে কম দেয়? তার ওপর আমাদের সবসময়ই দেরি করে টাকা দেয়া হয়। আমরা এর প্রতিকার চাই।”

এ বিষয়ে কর্মচারী সমিতির সভাপতি দিপক চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘‘ভর্তি পরীক্ষায় বি ইউনিটের চেয়ে সি ইউনিটে ফরম কম বিক্রি হয়েছে।  à¦¸à§‡à¦•à§à¦·à§‡à¦¤à§à¦°à§‡ সি ইউনিটের কর্মচারীদের চেয়ে আমাদের বেশি পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা, কিন্তু আমরা তা পাইনি। সি ইউনিটের কর্মচারীরা সর্বনিম্ন যে পারিশ্রমিক পেয়েছে (৭ হাজার ৯০০ টাকা) আমরা অন্ততপক্ষে সে অনুযায়ী যেন পাই বার বার সেটার দাবি জানিয়েও কোনো সুরাহা হয় নি। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের কাছে এ বিষয়ে অনেকবার গেলেও তিনি আমাদের আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই দেননি।”

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার আহবায়ক কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, “আমি ভর্তি পরীক্ষার নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে দিয়ে সব কাজ করাইনি,যতটা পারি নিজেরাই করেছি। তারপরও সেসব কাজ অন্যদের করানো যায় সেসব করিয়েছি। কর্মচারীদের কাজের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা আছে। যাকে দিয়ে যতটুকু কাজ করানো হয়েছি আমি তাকে ততটাই দিয়েছি।”

ভর্তি পরীক্ষার টাকায় কর্মচারীকে দিয়ে খাবার আনিয়ে কর্মচারীকেই খাবার দেয়া হয়নি- এমন অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “অনেক কাজ ও চাপের কারণে সবসময় সবকিছু মাথায় থাকেনা। আর আমি কর্মচারীকে বলে দিয়েছি, কখনো খাবার না পেলে আমাকে জানাতে, আমি তাকে টাকা দিয়ে দিব। সে আমাকে জানায়নি।” আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক যে একজন ড্রাইভার বরাদ্দ ছিল তাকে দিয়ে বেশি কোথাও যাওয়া হয়নি তাই তার যতটুকু পাওয়া উচিত তাকে ততটুকুই দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কর্মচারীদের অসন্তোষের বিষয়ে অর্থ বণ্টন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খান বলেন, “আমি শুধু টাকা বণ্টন করেছি। কে কত পাবে সেসব ভর্তি কমিটির আহবায়ক জানেন। আমি এসব কিছু জানিনা, এসব আমার কাজের মধ্যে ছিল না।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, “আমি দু’পক্ষের প্রতিনিধিদের আমার অফিসে ডেকে এনে এর একটা সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এবার তো যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে তাই আগামীবার যেন এ রকম না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে বলেছি।”

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2024 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon