Bangla Runner

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ | বাংলা

শিরোনাম

শীতকালীন ত্বকের যত্নে পাঁচ পরামর্শ কম্পিউটারের কিছু শর্টকাট ভালো চাইলে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দৌড়াতে শুরু করুন বিশ্বের বৃহত্তম সাত স্টেডিয়াম যুদ্ধ লাগলেই কেন বাড়ে স্বর্ণের দাম? তথ্যপঞ্জী লেখার নিয়ম বিতর্কের বিষয় ব্যাংক বিতর্কে শব্দ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে একজন ভাল লেখক হতে চাইলে এক নজরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Home / ক্যাম্পাস

দুধ নিয়ে গবেষণা:

শাস্তির ভয় দেখিয়ে দমানো গেল না প্রফেসরকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯ Print


প্রথম দফায় বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত (পাস্তুরিত) দুধ নিয়ে গবেষণা করে তাতে ক্ষতিকর এন্টিবায়ােটিক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। ওই à¦ªà§à¦°à¦¤à¦¿à¦¬à§‡à¦¦à¦¨ প্রকাশের à¦ªà¦° নানা মহল থেকে আসা à¦¶à¦¾à¦¸à§à¦¤à¦¿à¦° à¦¹à§à¦®à¦•à¦¿ à¦‰à¦ªà§‡à¦•à§à¦·à¦¾ করে ‘দ্বিতীয় দফা গবেষণা’ শেষে ‘আরো বেশি এন্টিবায়ােটিক’ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

প্রথম দফায় গবেষণার ফল প্রকাশের পর মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াসি উদ্দিন এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ‌‌ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য ওই রিপোর্টকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। উপর মহল থেকে এমন মন্তব্য আসার পর অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের গবেষণা প্রতিবেদনটির দায় এড়িয়ে যায় খোদ ফার্মেসি বিভাগও।

তবে নিজের গবেষণা রিপোর্টের প্রতি অবিচল থাকেন অধ্যাপক ফারুক। নতুন করে দ্বিতীয় দফা গবেষণা শেষে যথারীতি বোমা ফাটিয়েছেন তিনি। বায়োমেডিকেল রিসার্স সেন্টারের সাবেক এই পরিচালক ১৩ জুলাই, শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছেন, দ্বিতীয় দফায় গবেষণা শেষে দেখা গেছে নতুন ১০টি নমুনার ১০টিতেই এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে। প্রথম দফায় পাওয়া গিয়েছিল ৩টি এন্টিবায়ােটিক কিন্তু এবার পাওয়া গেছে ৪টি এন্টিবায়ােটিক। এইগুলো হলো- অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভােক্সাসিন।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “গত ২৫ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ফার্মেসি লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুধ ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য পরীক্ষার রিপাের্ট পেশকালে উপস্থিত গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম যে, পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধে মানবদেহের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক উপস্থিতি সনাক্ত প্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষার জরুরি প্রয়োজনে জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাসমূহ যেমন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচ) ইত্যাদি ল্যাবরেটরিগুলো যেন এখন থেকে নিয়মিতভাবে দুধে এন্টিবায়োটিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়।”

“বিএসটিআইয়ের দেড় যুগের পুরনাে দুধের স্ট্যান্ডার্ডে (Bangladesh Standard, BDS 1702. 2002) বর্তমানের নয়টি পরীক্ষার সাথে কমপক্ষে এন্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি পরীক্ষার মতো দুটি পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করে দুধের এই স্ট্যান্ডার্ডকে। যুগোপযোগী করার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছেন। এতে আমরা আরাে জানিয়েছিলাম যে, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভব থেকেই আমাদের সীমিত সামথ্যে আমরা এই পরীক্ষাটি মাঝে মাঝে করার চেষ্টা করবাে।”

বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “গত সপ্তাহে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় সম্পন্ন করেছি। প্রথমবারের মতাে এবারও পূর্বোক্ত ৫টি কোম্পানির ৭টি পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধের একই জায়গা থেকে সংগৃহীত নমুনা এবং একই জায়গা থেকে খােলা দুধের সংগৃহীত ৩টি নমুনা, অর্থাৎ সর্বমােট ১০টি নতুন নমুনায় এন্টিবায়ােটিকের উপস্থিতি একই নিয়মে একই উন্নত ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর ফলাফল আগের মতোই উদ্বেগ ত্তান। আবার সবগুলো নমুনাতেই এন্টিবায়ােটিক সনাক্ত করা গেছে। এন্টিবায়োটিকের মােট সংখ্যা ছিল ৪টি (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভােক্সাসিন)। এর মধ্যে আগের বারে ছিল না এমন এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ২টি (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও এনরোসিন)। ১০টি নমুনার মধ্যে ৩টিতে এন্টিবায়ােটিক পাওয়া গেছে ৪টি, ৬টিতে এন্টিবায়ােটিক পাওয়া গেছে ৩টি এবং ১টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ২টি।”

আ ব ম ফারুক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন, “আমরা ভবিষ্যতেও এই পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষাগুলাের ফলাফল জনস্বার্থে প্রকাশ করার চেষ্টা করবাে। আমরাআশা করি আমাদের প্রকাশিত এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট দুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলােকে নিজেদের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দূর করে পণ্যের গুণগত মান উন্নত করতে সাহায্য করবে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলাে দুধে এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতির বিষয়টি হালকাভাবে না নিয়ে তা নিয়মিতভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেবে এবং এভাবে দেশের দুধের মানের উন্নতি ঘটবে। উপরন্তু, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগজনক এই সমস্যাটি সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার পরিবর্তে বিশেষ কোন সরকারি কর্মকর্তাকে আর বিদেশি চক্রান্ত খুঁজতে হবে না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ à¦—বেষণা করা, à¦… আ ক খ মুখস্থ করা নয়: আজ দ্বিতীয় দফায় à¦¬à¦¿à¦œà§à¦žà¦ªà§à¦¤à¦¿ প্রকাশের পর à¦† ব ম ফারুক মুঠোফোনে à¦¬à¦²à§‡à¦¨, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে গবেষণা করে ফলাফল প্রকাশ করা। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু অ আ ক খ মুখস্থ করাবে তা হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টি করে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় জনগনের কাছে দায়বদ্ধতা অনুভব করে। আমরা যেটা প্রকাশ করেছি সেটা সম্পূর্ণ দেশের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই প্রকাশ করেছি। এটা কোনো কোম্পানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে করা নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট টাকা নিয়েই এটা করেছি এবং সরকারের যে ভেজালবিরোধী কর্মকাণ্ড, সেটাকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।  

জার্নালে প্রকাশ না করে সংবাদ সম্মেলনে বলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব গবেষণাগুলো জার্নালে ছাপা হতে গেলে কমপক্ষে এক বছর থেকে দেড় বছর লেগে যাবে। এই সময়কালে জনস্বাস্থ্যেরও ব্যাপক আকারে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ততদিন কি আমরা বসে থাকবো? আমরা ভালোভাবেই জানি কোনটা পিআর রিভিউতে দেয়া দরকার আর কোনটা দরকার না। 

গবেষণা প্রকাশ করার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সতর্ক করা যাতে তারা দুধ সিদ্ধ করে খায়। প্যাকেট কেটে স্ট্র দিয়ে বিজ্ঞাপনের মত যেভাবে ঢকঢক করে করে খাওয়া হয় সেটা উচিত না। দুধ সিদ্ধ করে খেতে হবে। কেননা সেখানে জীবাণু পাওয়া গেছে। আমারও ধারণা ছিল যে পাস্তুরিত দুধে কোনো ভেজাল থাকবে না, কিন্তু দেখা গেল সেটা হচ্ছে। তাই এটা জনগণকে জানাতে হবে। এটাই ছিল জনগণকে জানানোর উদ্দেশ্য যাতে তারা রোগাক্রান্ত না হয়।

ফেসবুকে সমালোচনা: এদিকে প্রথম দফায় গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই à¦¸à¦¾à¦®à¦¾à¦œà¦¿à¦• যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে à¦…নেকেই মন্তব্য করেছেন। ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর লিখেছেন, ‘বুঝতে পারছেন অসাধু, দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট কত বড়? দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে কেন সৎ, সাহসী মানুষগুলো ঝামেলায় পড়ে?  à¦…সাধু, দুর্নীতিবাজরা যতই প্রভাবশালী, শক্তিশালী হোক সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আমরা ফারুক স্যারের পাশে আছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আ ব ম ফারুকের দ্বিতীয় দফা গবেষণা প্রতিবেদনের à¦¸à¦‚বাদ বিজ্ঞপ্তিটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে à¦¢à¦¾à¦•à¦¾ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস à¦¸à¦¾à¦¦à§à¦¦à¦¾à¦® à¦¹à§‹à¦¸à§‡à¦¨ বলেছেন, ‘জ্ঞান, সৃজন আর সত্যের প্রতি অবিচল অনুরাগ নিয়ে পথ চলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক অঙ্গীকার।’

হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে ‌‌‌‘স্যার আপনার পাশে আছি’ লিখে সাংবাদিক সানাউল হক সানি লিখেছেন, ‘প্রথম দফার ফলাফলের পরে যারা হুমকি ধামকী দিয়ে স্যারকে দমাতে চেয়েছিলেন তাদের মুখে এবার কুলুপ পড়ুক। আমরা পরবর্তী প্রজন্মকে কি খাওয়াচ্ছি, বসে বসে ভাবতে থাকুন..’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও স্যার এ এফ রহমান হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুন লিখেছেন, ‘বোধগম্যতার মানচিত্র সৃষ্টি ও সঠিক সমালোচনা মূলক মডেলের যোগান দেয়া এবং ন্যায়ের ব্যাপারে প্রশ্নাতীতভাবে একত্রিত হওয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মগত স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য।’

প্রথম গবেষণা প্রতিবেদনের পর ফার্মেসি বিভাগ দায় অস্বীকার করার প্রতি ইঙ্গিত করে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো: আব্দুল্লাহ আল মাহদি লিখেছেন, ‘এখন ফার্মেসী ডিপার্টমেন্টের সহমত স্যারের কি হবে, যিনি বলেছিলেন এই রিসার্চ এর সাথে ফার্মেসী বিভাগের কোনো দায় নেই! আসলে মাস্টারদের মধ্যেও সমঝোতা থাকা উচিত! সহমত বলে নিজের কলিগকে হেয় করলেন আর তথাকথিত সচিবের বক্তব্যকে সাপোর্ট দিলেন!’

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2021 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon