Bangla Runner

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৩ | বাংলা

শিরোনাম

বিশ্বের বৃহত্তম সাত স্টেডিয়াম যুদ্ধ লাগলেই কেন বাড়ে স্বর্ণের দাম? তথ্যপঞ্জী লেখার নিয়ম বিতর্কের বিষয় ব্যাংক বিতর্কে শব্দ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে একজন ভাল লেখক হতে চাইলে এক নজরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক নজরে সুন্দরবন পরাগায়ন কাকে বলে? শৈবাল কী?
Home / ক্যাম্পাস

আগে কেন বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ওঠেনি?

এম.এস.আই খান
মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ Print


বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) রাজনীতির দ্বন্দ্বে রক্তপাতের ঘটনা নতুন নয়। বিশাল অঙ্কের টেন্ডার কেন্দ্র করে ২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েট ছাত্রদল সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের টগর গ্রুপের গোলাগুলিতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সনি নিহত হন। ২০১৩ সালে বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ রায়হান দ্বীপকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক ছাত্র দ্বীপকে গুরুতর আহত করেন তারই হলের হেফাজত সমর্থক ও স্থাপত্য বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মেজবাহ। পরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিভে যায় দ্বীপের জীবন প্রদীপ।

দু’দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গোটা দেশ স্তব্ধ হয়েছিল। শোকে ভেসেছিল ছাত্র সমাজ। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ওঠেনি ততটা প্রবলভাবে। তবে চলতি বছরের গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। ফেনী নদীর পানি ও ভারতকে বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার সমালোচনা করে দেওয়া এক পোস্টের জেরে আবরারকে নির্যাতন করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছাত্র শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন স্বীকারক্তি আদায়েরও চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় গোটা দেশ ক্ষোভে ফুঁসেছে। টানা পাঁচদিন বুয়েট অচেল করে দিয়ে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি অনুযায়ী ঘোষণা আসে রাজনীতি নিষিদ্ধের।

বুয়েটের শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, বুয়েট একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে রাজনীতি জরুরি নয়। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটিতে (সাচুসেট্‌স ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি) কোন ছাত্র রাজনীতি নেই। তারা কি রাজনীতিতে কোন অংশে পিছিয়ে? সারাদেশে নয় শুধুমাত্র বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। বিগত দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তাদের এই রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

সনি ও দ্বীপ হত্যার পরে কেন এতটা প্রবলভাবে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ওঠেনি? জানতে চাইলে ডাকসুর বর্তমন ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, “৯০ দশকের পর থেকে দলীয়  à¦¦à§à¦¸à¦¤à§à¦¬à§‡à¦° রাজনীতি প্রবল হয়ে ওঠে। তবে কোন সরকারই ৫ বছরের অধিক সময়ে টানা ক্ষমতায় ছিল না। কিন্তু বর্তমানে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় ছাত্রলীগ লিমিট (মাত্রা) ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এসব কারণে তাদের মনে এই দানবীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে ঘৃণা জন্মেছে।”

এই ছাত্র নেতা বলেন, “বুয়েটে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও নিরবে রাজনীতি চলবেই। তাই শিক্ষার্থীরা যদি সত্যিকার অর্থে ছাত্রলীগের অত্যাচার থেকে বাঁচতে চায় তাহলে তাদের ছাত্র সংসদ নির্বাচন চাওয়া উচিত।” সাংগঠনিক রাজনীতির পরিবর্তে ছাত্র সংসদ চালু হলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হবে বলে মনে করেন তিনি।

দিন দিন অপরাজনীতির পরিমাণ বেড়েছে মন্তব্য করে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সায়েম খান বলেন, “ছাত্র রাজনীতির একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে। সময়ের পরিক্রমায় এটি বাক বদলের সাথে সাথে চরিত্রের বদল ঘটিয়েছে। আগেও যে ছাত্র রাজনীতি কলুষিত ছিল না তা নয়। তবে এর পরিমাণ একদম কম ছিল। অধিকাংশ ভাল এই ক্ষুদ্র খারাপ অংশকে রুখে দিত। ছাত্র রাজনীতির এই খারাপ দিকটাকে আমরা ছাত্র রাজনীতি বলেই ভুল করি। ছাত্র রাজনীতিতে বর্তমান যে দিকটির আধিপত্য সেটা রাজনীতি নয়, অপরাজনীতি। সামগ্রিক দিক থেকে এই অপরাজনীতির উৎসমুখগুলো বন্ধ না করে সাংগঠনিক রাজনীতি বন্ধ করাটা এই সংকটকে আরো গভীর করে তুলবে বলে আমি মনে করি।”

পূর্বে ছাত্র মারা গেলেও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ওঠেনি এখন কেন উঠছে সে বিষয়ে বলতে গিয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ছাত্রলীগের অত্যাচার নির্যাতন এমন পর্যায়ে গেছে যে সেগুলো বন্ধ করা প্রয়োজন। তাই এমন দাবি উঠেছে। তবে ছাত্র রাজনীতি না থাকলে বুয়েট বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা হয়ে যাবে। আর ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে জামায়াত শিবিরের কাজের কোনো অসুবিধা হবে না। তারা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ছাত্র সংসদ কার্যকর করে শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে সুস্থ রাজনীতির জয় হবে মন্তব্য করে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল বলেন, ‘‘বুয়েটে যেটাকে ছাত্র রাজনীতি বলা হচ্ছে ওটা আদৌ ছাত্র রাজনীতি নয়। বুয়েটে যেটা ছিলো তা হলো ছাত্রলীগ ও বুয়েট প্রশাসনের মিলিত স্বৈরতন্ত্র। সেই কারণে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করলে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর এর ফলে বুয়েটে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের উত্থান ঘটবে এবং বুয়েট প্রশাসনের স্বৈরতন্ত্র আরো বাড়বে৷”

রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমান কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক রনি মুহাম্মাদ বলেন, রাজনীতি আইন করে যেমন চালু করা যায় না তেমনি আইন করে ঠেকিয়েও রাখা যায় না। রাজনীতি হলো আদর্শিক চর্চা এবং সময়ের প্রয়োজনে আদর্শিক ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বিবেকের তারণায় জেগে উঠা। বুয়েটে আইন করে কখনই রাজনীতি চালু করা হয়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শক্তি অতীতে যেমন এদেশের মানুষের জন্য গর্জে উঠেছে এখনো উঠছে। আপনারা বুয়েটের ঘটনায় দেখেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেয়নি। কারণ মুক্তিযুদ্ধের শক্তি, জাতির পিতার আদর্শ কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি, দিবেও না। সুবিধাভোগীদের দ্বারা কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য কোন কালেই আদর্শিক চর্চা থেমে থাকেনি, ভবিষ্যতেও থাকবে না।

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2021 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon