Bangla Runner

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৩ | বাংলা

শিরোনাম

বিশ্বের বৃহত্তম সাত স্টেডিয়াম যুদ্ধ লাগলেই কেন বাড়ে স্বর্ণের দাম? তথ্যপঞ্জী লেখার নিয়ম বিতর্কের বিষয় ব্যাংক বিতর্কে শব্দ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে একজন ভাল লেখক হতে চাইলে এক নজরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক নজরে সুন্দরবন পরাগায়ন কাকে বলে? শৈবাল কী?
Home / ক্যাম্পাস

নিরব প্রতিবাদে এখনো অচল বুয়েট: শর্ত পূরণের অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা

এম.এস.আই খান
সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯ Print


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শেরেবাংলা হলে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার পর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে শিক্ষার্থীরা। গত ৬ অক্টোবরের ওই ঘটনার শোক ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশে। সীমানা পেরিয়ে নিন্দা এসেছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে নিষ্ঠুর নির্যাতনে নিহত হওয়ার ওই ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেছে। প্রবল প্রতিবাদের মুখে বুয়েট থেকে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও বুয়েটে রাজনীতি করার কোন বৈধ আদেশ ছিল না। তবুও শিক্ষার্থীদের দাবি ও চাপের মুখে গত ১১ অক্টোবর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন উপাচার্য সাইফুল ইসলাম। একই সঙ্গে আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল আসামীকে বুয়েট থেকে সাময়িক বহিষ্কার করার ঘোষণা আসে।

শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া হবে এমন আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে ছাত্র-শিক্ষককরা ১৬ অক্টোবর গণশপথে অংশ নিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি টানেন। তবে আন্দোলন ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’। শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন- মামলার আসামীদের স্থায়ী বহিষ্কার না করা পর্যন্ত তারা কোন একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিবেন না। শুধু ক্যাম্পাসে শ্লোগান দিয়ে সরব যে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলত সেটি বন্ধ থাকবে।

নিরবে চলা এই অসহযোগ আন্দোলনের ফলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সেশন জটের। সময়মত ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় কার্যত স্থবির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের অন্যতম সেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। অচলাবস্থা কাটাতে সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর উপাচার্য, ডিএসডব্লিউ ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল শিক্ষার্থীরা। সেখানে দুই ধাপে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের নেতৃত্ব দেওয়াদের অন্যতম অন্তরা তিথি এ বিষয়ে জানান, প্রথম ধাপে- মামলার চার্জশিটের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং তিন হলে (আহসানুল্লাহ, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হল) র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিত করার পর পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করলে শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে।

দ্বিতীয় ধাপে- পরীক্ষা তথা একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার অন্তত এক সপ্তাহ আগে ক্যাম্পাসে সাংগঠিনিক রাজনীতি ও র‌্যাগিংয়ের ধরণ অনুযায়ী শাস্তির নীতিমালা তৈরি করে তা সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে। পরীক্ষার সাত দিন আগে যদি এ সকল কাজ দৃশ্যমান করা না হয় তবে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিবে না।

অগ্রগতি কতদূর: à¦¢à¦¾à¦•à¦¾ মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আবরার হত্যা মামলার তদন্ত করছে। গত ১ নভেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম এক সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করার কথা জানালেও তা দাখিল করা হয়নি।

তবে এক মাসের মধ্যেই মামলার তদন্ত শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম। তিনি জানিয়েছেন, চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। (আজ) মঙ্গলবার চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে বুয়েটের ২৫ ছাত্রের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২৫ আসামির অধিকাংশই এখন কারাগারে রয়েছেন। অন্তত ৩০ জন এ মামলার সাক্ষী হয়েছেন।

দুই ধাপে শিক্ষার্থীদের তিন দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক মিজানুর রহমান সোমবার à¦œà¦¾à¦¨à¦¾à¦¨, মিটিংয়ে (২ নভেম্বর ছাত্র-শিক্ষকদের) তারা আবরার হত্যা মামলার আসামীদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং র‌্যাগিংয়ে জড়িতদের শাস্তির বিষয়ে কথা বলেছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে সাংগঠনিক রাজনীতি ও র‌্যাগিং করলে তার শাস্তির বিষয়ে যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে তা উল্লেখ করেনি। তবে পরবর্তীতে তারা লিখিতভাবে এ বিষয়ে আমাদেরকে জানিয়েছে।

আবরার হত্যায় বুয়েটের নিজস্ব তদন্ত ও আসামীদের স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি এখনো রিপোর্ট দেন নাই। রিপোর্ট পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। গত সপ্তাহে তারা বর্ধিত (১০ কার্যদিবস) সময় নিয়েছেন। কারণ যারা অভিযুক্ত তাদের সাক্ষাৎ নিতে পারেন নাই। তারা (আসামীরা) এখন আটক থাকায় আমরা অনুমতি পাইনি (সাক্ষাৎকার নেওয়ার)। তদন্ত কমিটি কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু সব বিষয়তো আমাদের হাতে থাকে না।

তিন হলে র‌্যাগিংয়ের নামে শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়ে বলেন, র‌্যাগিংয়েরটা (তদন্ত) প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ সপ্তাহে পেয়ে যাব আশা করি। পেলে আমরা অধ্যাদেশ অনুযায়ী যে সাজা সেটা দেব।

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2021 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon