Bangla Runner

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৩ | বাংলা

শিরোনাম

বিশ্বের বৃহত্তম সাত স্টেডিয়াম যুদ্ধ লাগলেই কেন বাড়ে স্বর্ণের দাম? তথ্যপঞ্জী লেখার নিয়ম বিতর্কের বিষয় ব্যাংক বিতর্কে শব্দ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে একজন ভাল লেখক হতে চাইলে এক নজরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক নজরে সুন্দরবন পরাগায়ন কাকে বলে? শৈবাল কী?
Home / ক্যাম্পাস

মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চের হামলা, ভিপি নুরসহ আহত ১৯

ঢাবি প্রতিনিধি
বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ Print


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)'র ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেনের উপর হামলা চালিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এতে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। ১৭ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রকাশ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর এই হামলার বিচার চাইতে গিয়ে রাত ৮টার দিকে আরেক দফা হামলায় আহত হয়েছেন আরো ১১ জন। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে মোট ১৯ জন আহত হয়েছেন।

প্রথম দফায় হামলার বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা আব্দুল্লাহ হীল বাকি বলেন, রাজু ভাস্কর্যের সামনে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ নামক সন্ত্রাসী সংগঠনের অতর্কিত হামলায় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন,  আইন বিভাগের সালেহ উদ্দিন সিফাতও তারেক আদনান গুরুতর আহত হয়েছেন। আর ভিপি নুরুলহক নুর সহ ৮ জনের মতো শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সবাইকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আব্দুল্লাহ হীল বাকি বলেন, "বিতর্কিত নাগরিত্ব বিল নিয়ে ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপরে পুলিশী হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে একাত্বতা পোষণ করে রাজুর সামনে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েছিলো, তখনই এই সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়।"

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশের শুরুর দিকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা এসে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তারা ডাকসু ভিপি নুরুল হক, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার  হোসন সহ বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মাদ রাশেদ খান, ফারুক  হোসেন সহ অন্যদের উপর হামলা চালায় ও লাঞ্ছিত করে।  

তবে হামলা শেষে নুরুল হক পুনরায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে দাঁড়িয়ে কথা বলেন। আগামীকাল সকাল ১১টায় তিনি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে রক্তাক্ত অবস্থায়ই সমাবেশে অবস্থান করেন আকতার হোসেন। তিরি ব্যানারের সামনে বসে পরেন। পরে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, ভারতের আধিপত্য কায়েম হতে দিব না। সরকারের নীরব ভূমিকার জন্য দেশ আজ অন্যের হাতে।

হামলার ভিডিও দৃশ্যে দেখা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা সমাবেশ না করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং কথা-কাটাকাটির এক পর্যায় মারধর করতে শুরু করেন। হামলার এক পর্যায় ভিপি নুরসহ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কয়েকজনকে মারধর করেন তারা। 

দ্বিতীয় দফা হামলা: à¦°à¦¾à¦¤ ৮টার দিকে উপাচার্যের কাছে হামলার বিচার চাইতে গিয়ে দ্বিতীয় দফা মারধরের শিকার হয়েছেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা। দ্বিতীয় দফায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের হাতে আরো অন্তত ১১জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন, ফারুক হাসান ও মাহফুজ খানসহ সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী বিচার চাইতে গেলে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মী তাদের মারধর করতে শুরু করেন।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদসহ প্রায় ৩৫-৪০ জন এসে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সমাজবিজ্ঞার বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন গুরুতর আহত হন। 

দ্বিতীয় দফায় হামলার সময় মারধরের শিকার ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নাম দিয়ে তারা একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্বাদের নাম ব্যবহার করে এরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের পিছনে কারা রয়েছে সেটি খুঁজে দেখা দরকার।

এদিকে হামলার দায় স্বীকার করে নিয়ে আগামীতে ভিপি নুরুল হক নুরকে যেখানে পাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

তিনি বলেছেন, নুর ডাকসুর ভিপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের প্রতিনিধি। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার নুরের নেই। আমরা সাধারণ ভোটার হিসাবে তাদের জিজ্ঞেস করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করতে গেলেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সেখানে মারামারি বাধেঁ। নুর বিভিন্ন অপকর্মের সাথে যুক্ত। আমরা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নুরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাকে যেখানে পাবো সেখানে প্রতিহত করবো।

অন্যদিকে অনুমতি নিয়ে সমাবেশ না করায় প্রক্টর হামলার ঘটনায় কোন ব্যবস্থা নিবেন না বলে জানিয়েছেন। প্রক্টর অধ্যাপক ড একেএম গোলাম রব্বানী বলেছেন, ‘রাজু ভাস্কর্যে কাউকে প্রোগ্রাম করার অনুমিত দেওয়া হয়নি। এখানে প্রোগ্রাম করা নিষেধ। এটি তার (ভিপি নুর) কাছ থেকে প্রত্যাশিত না। যার জন্য এর দায়-দায়িত্বও তার নিজের। যারা হামলা চালিয়েছে তারাও কাজটা সঠিক করেনি। তবে আমরা নুরুর কাছে অনেক বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করি।

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2021 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon