Bangla Runner

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৩ | বাংলা

শিরোনাম

বিশ্বের বৃহত্তম সাত স্টেডিয়াম যুদ্ধ লাগলেই কেন বাড়ে স্বর্ণের দাম? তথ্যপঞ্জী লেখার নিয়ম বিতর্কের বিষয় ব্যাংক বিতর্কে শব্দ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে একজন ভাল লেখক হতে চাইলে এক নজরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক নজরে সুন্দরবন পরাগায়ন কাকে বলে? শৈবাল কী?
Home / ক্যাম্পাস

মেয়ে ধর্ষণের বিচার চেয়ে কাঁদলেন ‘স্বপন মামা’

ঢাবি প্রতিনিধি
শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২০ Print


স্বপন মামা নামে তাকে একনামে চেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রায় ৪০ বছর ধরে টিএসসিতে চা বিক্রি করে আসছেন তিনি। বহু মানুষ হাসি-আড্ডার ফাঁকে তার চায়ের কাপে চুমুক দিয়েছে। আজ সেই স্বপন মামা কাঁদলেন শিক্ষার্থীদের সামনে। গত রোববার ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছে। চতুর্থ দিনের মত আজও বৃহস্পতিবার (৯জানুয়ারি)  আন্দোলনে সরব রয়েছে শিক্ষার্থীরা। মোকাররম ভবনের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা দুপুরে রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধনের আয়োজন করলে সেখানে এসে সংহতি প্রকাশ করেন টিএসসির চা বিক্রেতা স্বপন মামা। 

নিজের প্রতিবন্ধী মেয়ের ধর্ষণের বিচার চেয়ে বুকচাপা কষ্ট নিয়ে ভেজা গলায় স্বপন মামা বলেন, “ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমি একাত্ম ঘোষণা করলাম। আমারও এক মেয়ে ধর্ষণ হয়েছে।আমি এর বিচার পাই নাই।” এ সময় তার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। স্বপন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।” উপস্থিত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “আমি যেন এর বিচারটা পাই, এই ব্যবস্থা আপনারা সবাই করবেন। আর যেন কোন দিন এই ধর্ষণ না হয়। এই ব্যবস্থা আপনারা করবেন।”

আবদুল জলিল ওরফে স্বপন মামা বলেন, “আমি এই ক্যাম্পাসে অনেকদিন ধরে আছি, এই ক্যাম্পাসের সাথে আমি জড়িত।এই রকম ধর্ষণ যেন আর না হয়। এ রকম কারো চোখের পানি যেন আর না আসে।এই ব্যবস্থা যেন সরকার করে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন করছি, আমি যেন সঠিক বিচার পাই। এটাই আমার দাবি, এই বলে আমি শেষ করছি।”

প্রসঙ্গত, চা বিক্রেতা স্বপন মামার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বাসুদেব গ্রামে। সেখানে ২০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী মেয়েসহ তার পরিবার থাকে। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে একই গ্রামের প্রায় ৭০ বছর বয়সী বাচ্চু মিয়া ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ওইদিনই অভিযুক্তসহ তার দুই ভাই বাহার ও আক্কাসকে আসামি করে মামলা করার পর বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর ছয় মাস পর অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয় পুলিশ। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাব্যুনাল আসামিকে গত ২৭ নভেম্বর জামিন প্রদান করেন।

জামিনে বের হয়ে আসামিপক্ষের লোকজন স্বপন, তার ছেলে রনি এবং চাচাতো ভাইকে আসামি করে প্রথমে মাদকের এবং পরে ডাকাতির মামলা করেন।তারপর থেকে নিজ মেয়ের শ্লীলতাহানীর বিচার ও তার বিরুদ্ধে করা ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন টিএসসি’র স্বপন মামা। গরিব মানুষ হওয়ায় মামলা চালাতেও হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2021 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon