Bangla Runner

ঢাকা , বুধবার, ২২ মে, ২০২৪ | বাংলা

শিরোনাম

সনাতনী বিতর্কের নিয়মকানুন গ্রীষ্ম, বর্ষা না বসন্ত কোন ঋতু সেরা?  বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা পাঠানোর ই-মেইল বিশ্বের সবচেয়ে দামি ৫ মসলা Important Quotations from Different Disciplines স্যার এ এফ রহমান: এক মহান শিক্ষকের গল্প ছয় সন্তানকে উচ্চ শিক্ষত করে সফল জননী নাজমা খানম ‘সুলতানার স্বপ্ন’ সাহিত্যকর্মটি কি নারীবাদী রচনা? কম্পিউটারের কিছু শর্টকাট ভালো চাইলে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দৌড়াতে শুরু করুন
Home / ইতিহাসের পাতা

আজ মহান শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

সবকটা জানালা খুলে দাও না...

এম.এস.আই খান
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ Print

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলে বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ। ১৪ ডিসেম্বর প্রথম প্রহরে ছবিটি তুলেছেন আসিফ ইকবাল নাহিদ


"সবকটা জানালা খুলে দাওনা, আমি গাইব গাইব বিজয়েরই গান। ওরা আসবে চুপি চুপি যারা এই দেশটাকে, ভালোবেসে দিয়ে গেছে প্রাণ।"

চূড়ান্ত পরাজয়ের আগে পাকিস্তানের শেষ যুদ্ধাপরাধটি ছিল জ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী ও উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবী নিরস্ত্র বাঙালিকে হত্যা। নিরীহ ও যুদ্ধে অংশ না নিয়েও বুদ্ধিজীবীদেরকে পাকিস্তানের জিজ্ঞাংসার শিকার হতে হয়েছিল। যুদ্ধের নূন্যতম কোন নীতি না মেনে নিরপরাধ মানুষকে ঘর থেকে ডেকে এনে খুন করা হয়েছিল একে একে। আলোর জন্য অভিযান তথা অপারেশন সার্চ লাইটের মত ইতিবাচক নাম দিয়ে যে ন্যাক্কারজনক ও নেতিবাচক কাজ শুরু করেছিল পাকিস্তান আর্মি সেই নিকৃষ্ট কাণ্ডের শেষ আচরটি ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যা।

শুরু থেকেই যুদ্ধের যাবতীয় নীতি লংঘন করে আসা পাকিস্তান সেনারা যখন অনুভব করতে শুরু করে আত্মসমর্পণ ছাড়া গত্যান্তর নেই, তখন নতুন যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি জন্ম নিতে যাচ্ছে তার মেরুদণ্ডকে যতটা সম্ভব দুর্বল করে দেয়ার কুখ্যাত ও জঘন্যতম নীতি গ্রহণ করে তারা। বহু ঘরের দরজায় কড়া নেড়ে তারা কেড়ে নিয়েছে অমূল্য সব জীবন। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবার পর যেন খুব দ্রুত এগিয়ে যেতে না পারে সে জন্য বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের খুন করা হয়। একটি অজ্ঞ জাতি হিসেবে যেন বাঙালিরা পাকিস্তান থেকে সবসময় পিছিয়ে থাকে, সেই প্রত্যাশা ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যার কুশীলবদের। 

বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানি বিদ্বেষের শেষ কামড় ছিল এটি। এ জন্য তারা তালিকা করে দেশের বিশিষ্ট বাঙালি বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানি, আইনজীবী, শিল্পী, দার্শনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদগণসহ অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের হত্যা করে। যার অভাব পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র অনুভব করেছে। তাই বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৪ ডিসেম্বর এক বেদনা ঘন দিন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।

বাঙালি জাতি প্রতি বছরই বিজয় উৎসবের আগে এই দিনটিতে শ্রদ্ধা ও বেদনার সঙ্গে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে থাকে। ১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৪ই ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে দেশীয় দোসরদের সহায়তায় বুদ্ধিজীবীদের শহীদ করা হয়। দেশীয় রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিল ওই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পরে রায়েরবাজারের পরিত্যক্ত ইটখোলা, মিরপুরসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে একে একে পাওয়া যায় হাত-পা-চোখ বাঁধা দেশের খ্যাতিমান সন্তানদের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ।

হত্যার আগে চালানো হয়েছিল পৈশাচিক নির্যাতন। বাঙালিদের উন্নতি যে পাকিস্তান কখনোই চাইত না তার সর্বশেষ প্রমাণ ছিল এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। যুদ্ধে অংশ না নিলেও পাকিস্তানিদের দৃষ্টিতে শিক্ষিত ও জ্ঞানী মানুষ হওয়াই ছিল তাঁদের অপরাধ। সাধারণ শিক্ষিত মানুষও যে পাকিস্তানের রক্তচক্ষুর শিকার হবে সেটি আগে থেকে আঁচ করতে পারেনি বাঙালিরা। ফলে বুদ্ধিজীবীরা আত্মরক্ষা করারও কোন সুযোগ পাননি। যুদ্ধ শেষে নানা স্থান থেকে বুদ্ধিজীবীদের মৃতদেহ সনাক্ত হবার পর ঘাতকদের বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা উন্মোচিত হয় । 

একাত্তর জুড়ে হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা যায়নি। সব শহীদ বুদ্ধিজীবীর পরিচয় দূরের কথা, তাঁদের প্রকৃত সংখ্যাই অদ্যাবধি নিরূপণ করা সম্ভব হয় নি। প্রাপ্ত তথ্যসূত্র থেকে মোটামুটি একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বাংলাপিডিয়ার মতে, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী, ৯ জন সাহিত্যিক ও শিল্পী, ৫ জন প্রকৌশলী এবং অন্যান্য ২ জন।

এঁদের মধ্যে রয়েছেন ড. জি সি দেব, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মুনীরুজ্জামান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, ড. গোলাম মোর্তজা, ড. মোহাম্মদ শফি, শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজউদ্দীন হোসেন, নিজামুদ্দিন আহমেদ লাডু ভাই, খন্দকার আবু তালেব, আনম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, নাজমুল হক, আলতাফ মাহমুদ, নূতন চন্দ্র সিংহ, আরপি সাহা, আবুল খায়ের, রশীদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, আবুল বাশার, ড. মুক্তাদির, ফজলুল মাহি, ড. সাদেক, ড. আমিনুদ্দিন, হাবিবুর রহমান, মেহেরুন্নেসা, সেলিনা পারভীন, সায়ীদুল হাসানসহ আরো অনেকে।

বাংলাদেশে প্রতিবছর সারাদেশে পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর শহীদদের স্মরণ করা হয়ে থাকে। কালোব্যাজ ধারণ, নিরবতা পালন, ও বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। ১৪ ডিসেম্বরের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও আলো নিভিয়ে নিষ্প্রদীপ হয়ে স্মরণ করে অগণিত প্রাণকে। হৃদয়শীতল করা সুরে পুরো জাতি যেন গেয়ে ওঠে- "আজ আমি সারা নিশি থাকবো জেগে, ঘরের আলো সব আঁধার করে।
ছড়িয়ে রাখো, আতর গোলাপ
এ দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে
ওরা আসবে চুপি চুপি
কেউ যেন ভুল করে গেও নাকো মন ভাঙ্গা গান
সবকটা জানালা খুলে দাও না..."

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2024 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon