গতকাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী ও দেশব্রতী লীলা নাগের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭০ সালের ১১ জুন তিনি মৃত্যু বরণ করেন। বাবা গিরিশ চন্দ্র নাগ ও মাতা" /> মূলপাতা | ????? ?????
Bangla Runner

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ | বাংলা

শিরোনাম

Home / ??????? ?????

ঢাবির প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ: শিক্ষা বিস্তারে যার অপরিসীম অবদান

রানার ডেস্ক
বুধবার, ১২ জুন ২০১৯ Print


গতকাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী ও দেশব্রতী লীলা নাগের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭০ সালের ১১ জুন তিনি মৃত্যু বরণ করেন। বাবা গিরিশ চন্দ্র নাগ ও মাতা কুঞ্জলতা নাগের কোল আলো করে ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের ০২ অক্টোবর তারিখে ভারতের আসাম প্রদেশের গোয়ালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন লীলা নাগ।

বাংলার নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ এই এই মহীয়সী নারীর পৈত্রিক নিবাস ছিল বাংলাদেশের সিলেটে। তাদের পরিবার ছিল তৎকালীন সিলেটের অন্যতম সংস্কৃতমনা ও শিক্ষিত একটি পরিবার। পিতা গিরীশচন্দ্র নাগ কর্মজীবনে ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯৩৯ সালে বিপ্লবী অনিল রায়ের সাথে বিয়ে হওয়ার পর তার নাম হয় লীলা রায়।

তিনি একাধারে সাংবাদিক, জনহিতৈষী এবং রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন নেত্রী হিসেবে তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে যুক্ত থাকার কারণে তাকে বেশ কয়েকবার কারা বরণও করতে হয়েছে। দেশভাগের দাঙার সময় তিনি গান্ধীজীর সঙ্গে নোয়াখালীতে দেখা করেন।

সাংবাদিকতার অংশ হিসেবে তিনি মহিলাদের মুখপত্র “জয়শ্রী” নামে একটি পত্রিকা বের করেন। ছবি আঁকা, গান করা এবং সেতার বাজাতে জানতেন লীলা নাগ। 

দিপালী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা লীলা নাগের শিক্ষা জীবন শুরু হয় ঢাকার ইডেন স্কুলে। এরপর বেথুন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বি.এ পাশ পরীক্ষা দিয়ে তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এ জন্য তিনি পদ্মাবতী স্বর্ণ পদক পান। বিএ পাশের পরকলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বি.এ পাশ পরীক্ষা দিয়ে তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এ জন্য তিনি পদ্মাবতী স্বর্ণ পদক পান। 

এরপর ১৯২১ সালে লীলা নাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল়য়ে ইংরেজি বিষয়ে এমএ শ্রেণিতে ভর্তি হন। তখনকার পরিবেশে সহশিক্ষার কোনও ব্যবস্থা ছিল না।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চান্সেলর ড. ফিলিপ জোসেফ হার্টগ লীলা’র মেধা ও আগ্রহ বিবেচনা করে বিশেষ অনুমতি দেন। ১৯২৩ সালে দ্বিতীয় বিভাগে এমএ ডিগ্রী অর্জন করেন এবং এর মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমএ ডিগ্রীধারী হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি। 

লীলা নাগ সম্পর্কে সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন তার স্মৃতিকথা নামক প্রবন্ধ সংকলনে লিখেছেন, “এঁর মত সমাজ-সেবিকা ও মর্যাদাময়ী নারী আর দেখি নাই। এঁর থিওরী হল, নারীদেরও উপার্জনশীলা হতে হবে, নইলে কখনো তারা পুরুষের কাছে মর্যাদা পাবে না। তাই তিনি মেয়েদের রুমাল, টেবলক্লথ প্রভৃতির উপর সুন্দর নক্সা এঁকে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। এই সব বিক্রি করে তিনি মেয়েদের একটা উপার্জনের পন্থা উন্মুক্ত করে দেন।”

নারী শিক্ষা বিস্তারে তিনি অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। ঢাকার আরমানীটোলা বালিকা বিদ্যালয়, কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল এবং তৎকালীন নারীশিক্ষা মন্দির (বর্তমান শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর লীলা নাগ কলকাতায় চলে যান। সেখানেও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে নিজের অবদান অমর করে রাখেন এই মহীয়সী নারী।

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2024 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon