Bangla Runner

ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪ | বাংলা

শিরোনাম

রম্য বিতর্ক: ‘কুরবানীতে ভাই আমি ছাড়া উপায় নাই!’ সনাতনী বিতর্কের নিয়মকানুন গ্রীষ্ম, বর্ষা না বসন্ত কোন ঋতু সেরা?  বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা পাঠানোর ই-মেইল বিশ্বের সবচেয়ে দামি ৫ মসলা Important Quotations from Different Disciplines স্যার এ এফ রহমান: এক মহান শিক্ষকের গল্প ছয় সন্তানকে উচ্চ শিক্ষত করে সফল জননী নাজমা খানম ‘সুলতানার স্বপ্ন’ সাহিত্যকর্মটি কি নারীবাদী রচনা? কম্পিউটারের কিছু শর্টকাট
Home / অর্থ-বাণিজ্য

যুদ্ধ লাগলেই কেন বাড়ে স্বর্ণের দাম?

রানার ডেস্ক
শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩ Print


86K

অলংকার থেকে মুদ্রা, আদি থেকে বর্তমান সর্বকালে সর্ব যুগে মানুষের কাছে স্বর্ণ মূল্যবাদ ধাতু। মূল্যবান এই ধাতুটি আরো মূল্যবান হয়ে ওঠে যুদ্ধ কিংবা বৈশ্বিক সংকটকালে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যুদ্ধ কিংবা বৈশ্বিক সংকটকালে কেন বেড়ে যায় স্বর্ণের দাম?

বিশ্বব্যাপী স্বর্ণকে বলা হয় সেইফ হ্যাভেন বা নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম। এর কারণ হচ্ছে স্বর্ণের দাম সবসময় বাজার মূল্যের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক থাকে। মূল্যস্ফীতি কিংবা মূল্যসংকোচন সব অবস্থায় স্বর্ণের মূল্য বাজারের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখে। ডলার কিংবা কোনো মুদ্রায় বিনিয়োগ করা হলে যে কোন সময় বিনিময়মূল্য কমে যেতে পারে। ধরুন-  পঞ্চাশ বছর আগে ৫ টাকায় আপনি যে পণ্য পেতেন এখন সেই টাকায় একই পরিমাণ পণ্য পাবেন না। আর এ ক্ষেত্রেই স্বর্ণ ব্যতিক্রম। ১৯৭১ সালে এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১৫৪ টাকা। অর্ধশতাব্দী পরে এখন স্বর্ণের দাম লাখের ঘরে। অর্থৎ স্বর্ণের বিনিময় মূল্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপডেট হয়েছে। 

যুদ্ধ, মহামারি কিংবা যে কোন আর্থিক মন্দার সময় ডলার বা মুদ্রার উপর আস্থা কমে যায়। কারণ এ সময় মূল্যস্ফীতি দেখা দেয় এবং মুদ্রার মান কমে যায়। সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রার মান দ্রুত কমতে থাকে। আর তখনই বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেন। কারণ স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল থাকায় মূল্যস্ফীতি কিংবা মূল্য সংকোচনের সময় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কম থাকে। তাই যে কোন ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা সংকটের সময় স্বর্ণের প্রতি ঝুঁকেন বিনিয়োগকারীরা। এতে চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়ে যায় ধাতুটির।

যুদ্ধের সময় ডলারের প্রতি আস্থা কমে যাওয়ায় অনেক দেশই বিনিময় মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে ব্যবহার করেন। যেমন- জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলো অস্থির সময়ে স্বর্ণে মূল্য দাবি করে থাকে। এ ছাড়া, ইরান, রাশিয়াও ডলার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে স্বর্ণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

আবার সংকট কেটে গেলে মানুষ বিভিন্ন ব্যবসা ও আর্থিক কাজে অর্থ বিনিয়োগ করতে শুরু করে। তখন স্বর্ণ ক্রয়ের চাহিদাও ধীরে ধীরে কমে আসে। ফলে দামও কমতে শুরু করে। বাজারের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে দাম ওঠা-নামা করায় বিশ্বব্যাপী উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের এই ধাতুটি নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনান্য ধাতু থেকে যে কারণে স্বর্ণ অনন্য
উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের এই ধাতুটির কদরের পিছনে রয়েছে কিছু গুণ, যা অনান্য ধাতু থেকে এটিকে অনন্য করে তুলেছে। স্বর্ণের সামাজিক কদর কিংবা বাজার গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি অবিক্রিয়াশীল গুণ ধাতুটিকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে। যেমন- লোহা কিংবা টিনের মত ধাতু দ্রুতই কালচে হয়ে যায় কিংবা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। কিন্তু স্বর্ণ হাজার হাজার বছর ফেলে রাখলেও এর রঙ নষ্ট হয় না, ক্ষয় হয়ে ওজন কমে যায় না। আবার অ্যালুমিনিয়াম, রূপা বা প্লাটিনামের মত ধাতুগুলো একই গুণ সম্পন্ন হলেও স্বর্ণের মত উজ্জ্বল হলদে রঙ নেই।

আরও পড়ুন আপনার মতামত লিখুন

© Copyright -Bangla Runner 2024 | All Right Reserved |

Design & Developed By Web Master Shawon